আজকের দিনেতিলোত্তমা

​আর জি কর কাণ্ডে এবার সিবিআই স্ক্যানারে বিনীত গোয়েলসহ ৩ সাসপেন্ডেড আইপিএস

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অভিশপ্ত রাতের ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার অভিযোগে এবার অত্যন্ত সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলসহ তিন ‘দুঁদে’ আইপিএস আধিকারিক। সম্প্রতি রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘আর জি কর ফাইলস’ নতুন করে খোলার নির্দেশ দিতেই বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা-কে সাসপেন্ড করা হয়। এবার এই তিন আধিকারিককে ঘিরে সাঁড়াশি তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিবিআই।

​ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি সংগ্রহ

​সূত্রের খবর, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। গত শুক্রবার তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে তলব করা হয়েছে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে। এই তিন আধিকারিকের থেকে পাওয়া তথ্য ও নথি একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

খতিয়ে দেখা হচ্ছে ‘প্রভাবশালী’ যোগ

​তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হলো— ঘটনার রাতে বা তার পরবর্তী সময়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা রাজ্যের কোনো মন্ত্রী এই পুলিশ আধিকারিকদের ফোনে বা মেসেজে কোনো বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আধিকারিকদের কল ডিটেইলস রেকর্ড এবং চ্যাট হিস্ট্রিও পরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

​সেমিনার রুম থেকে শ্মশান:

স্ক্যানারে পুরো ঘটনাক্রম
​২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে শিয়ালদহ আদালত দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে, কিন্তু তাতেও ক্ষোভ কমেনি। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের স্পষ্ট দাবি, এই নৃশংস ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত, যাদের আড়াল করা হয়েছে।
​সুবিচার নিশ্চিত করতে সিবিআই এখন ঘটনার রাত থেকে শুরু করে নির্যাতিতার শেষকৃত্য পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম পুনর্নির্মাণ করছে। এই সূত্রেই পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে জেরা করেছে সিবিআই। পাশাপাশি, তাড়াহুড়ো করে দেহ দাহ করার পেছনে কোনো চাপ ছিল কিনা, তা জানতে শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে প্রায় ২০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। যদিও শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবারের সম্মতিতেই দাহকার্য সম্পন্ন হয়েছিল।
​এখন দেখার, বিনীত গোয়েলসহ তিন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর আর জি কর রহস্যের জট পুরোপুরি খোলে কিনা, নাকি আড়ালে থাকা অন্য কোনো রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *