স্টেশনে শৌচাগারের টেন্ডার নিয়ে বিবাদ! মৃত ১
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, হাওড়া:- দিনদুপুরে ভরা স্টেশনের মধ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড! শৌচাগারের টেন্ডার নিয়ে বিবাদের জেরে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার মৌরিগ্রাম স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। প্রকাশ্য দিবালোকে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন চত্বরে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে যাত্রীরা তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অস্ত্রসহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
কী ঘটেছিল এদিন?
স্থানীয় ও রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার সকাল থেকেও মৌরিগ্রাম স্টেশনে নিত্যযাত্রীদের ব্যস্ততা ছিল স্বাভাবিক। দুপুর ১২টা নাগাদ ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শৌচাগারের সামনে হঠাৎই দুই ব্যক্তির মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। বচসা চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাতাহাতি চলাকালীন আচমকাই এক ব্যক্তি তার সাথে থাকা ধারালো ছুরি বের করে অপরজনের ওপর চড়াও হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে আততায়ী। ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় প্ল্যাটফর্মেই লুটিয়ে পড়েন আক্রান্ত ব্যক্তি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
যাত্রীদের তৎপরতা ও গণপিটুনি:
ভরা স্টেশনের মধ্যে এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। ভয়ে সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে দেন। এই হুলস্থূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্টেশন চত্বর থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে থাকা উপস্থিত যাত্রীরা সাহসিকতার সাথে তাড়া করে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এর পরেই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে।
তদন্তে পুলিশ ও রেল আধিকারিকরা:
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত মৌরিগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। একই সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জিআরপি-র জওয়ানেরা। পুলিশ উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং হত্যাকাণ্ড ছড়ানো ধারালো অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
খুনের কারণ কী?
প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে অনুমান, মৌরিগ্রাম স্টেশনের শৌচালয়ের টেন্ডার বা লিজ পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ অশান্তি চলছিল। সেই পুরনো শত্রুতা ও টেন্ডার বিতর্কের জেরেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আসল কারণ জানার চেষ্টা করছে রেল ও জেলা পুলিশ। দিনদুপুরে স্টেশনের নিরাপত্তার মাঝে এই ধরণের ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নিত্যযাত্রীরা।
