আম কুড়োতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণ, ছিটকে পড়ল ৩ শিশু
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মালদহ: আম কুড়োতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা। ‘আম’ ভেবে প্লাস্টিক বোমা ব্যাগে ভরতে গিয়েই ঘটল চরম বিপত্তি। বিকট শব্দে বিস্ফোরণে ছিটকে পড়ল তিন শিশু। মঙ্গলবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের ইংরেজবাজার থানা এলাকার কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্ন বিঘা গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
আম ভেবে বোমায় হাত দিতেই বিপর্যয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বাহান্ন বিঘা এলাকারই বাসিন্দা তিন শিশু বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে একটি আমবাগানে আম কুড়োতে গিয়েছিল। বাগানের মধ্যে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে অবুঝ শিশুরা সেটিকে আম ভেবে ভুল করে। এক শিশু সেটি কুড়িয়ে নিজের ব্যাগে ভরতে যাওয়ার মুহূর্তেই আচমকা হাতের মধ্যেই ফেটে যায় বোমাটি।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ছিটকে পড়ে তিন শিশুই। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুই শিশুও চিকিৎসাধীন।
অদূরেই তৃণমূলের পার্টি অফিস, জুয়া ও সমাজবিরোধীদের আড্ডা
এই ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, যে আমবাগানে এই ঘটনা ঘটেছে, তার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস। এলাকাবাসীদের দাবি, এই আমবাগানে প্রতিদিন নিয়ম করে বসে জুয়ার ঠেক। পাশাপাশি চলে নানাবিধ অবৈধ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ।
ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই তাসের বান্ডিল এবং দেশলাই বাক্স উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই সমাজবিরোধীদের আড্ডাকে কেন্দ্র করেই আমবাগানে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছিল। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে জনবসতিপূর্ণ এলাকার এত কাছে তাজা বোমা মজুত করে রেখেছিল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তদন্তে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। বাগানে আরও বোমা মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোটের আবহে মালদহের বুকে ফের এই বোমা বিস্ফোরণ এবং শৈশব রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
