এবার ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তির খতিয়ান তলব ইডির!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার আরও গতি বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। চাকরি বিক্রি এবং ঘুষের কোটি কোটি টাকা আদতে কার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বারবারই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ । এবার সেই সংস্থার সমস্ত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং সম্পত্তির খতিয়ান তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোমবারই এই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা করেন ইডি আধিকারিকরা।
জেরার মুখে অভিষেক, অসহযোগিতার অভিযোগ ইডির
সোমবার বেলা ১১টা থেকে সিজিও কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদ। ম্যারাথন জেরা শেষে রাত ১০টা নাগাদ তিনি বের হন। ইডি সূত্রের দাবি, দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার এই জিজ্ঞাসাবাদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেননি।
যদিও ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “আমি সকাল ১১টার আগে এসেছি। প্রায় ১১ ঘণ্টা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই মামলায় শেষবার আমাকে ২০২৩ সালে ডাকা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আমি এ পর্যন্ত ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় এজেন্সির সামনে হাজিরা দিয়েছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সবরকম সাহায্য করেছি।” তবে অভিষেককে নতুন করে আবার ডাকা হবে কি না, তা সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই ইডি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গিয়েছে।
ইডির ‘তুরুপের তাস’ সেই ১৫ মিনিটের অডিও রেকর্ড!
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকদের হাতে আসা একটি ১৫ মিনিটের অডিও কথোপকথনই এখন এই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইডির তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটেও এই অডিও রেকর্ডিংয়ের উল্লেখ রয়েছে। সোমবার অভিষেককে জেরার ক্ষেত্রে এই অডিও ফাইলটিকেই ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার করেন তদন্তকারীরা।
কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, ২০১৭ সালে ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, চাকরি বিক্রির কোটি কোটি টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ওই বৈঠকে নিজেদের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়। আর সেই কথোপকথনের মধ্যেই একাধিকবার নাম ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।
১০০ কোটি তোলার টার্গেট ও টাকার ভাগ
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা গিয়েছে যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘুষের বিনিময়ে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দিতেন এবং তিনি সুজয়কৃষ্ণের কাছে ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করেছিল ‘কালীঘাটের কাকু’।
সেই ১০০ কোটি টাকা তোলার ‘গুরুদায়িত্ব’ দেওয়া হয়েছিল কুন্তল ও শান্তনুকে। এই বিপুল অঙ্কের টাকার মধ্যে ২০ কোটি টাকা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে দেওয়ার কথা ছিল বলেও অডিও সূত্রে জানতে পেরেছে ইডি। এই মামলায় ইতিমধ্যেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুজয়কৃষ্ণের কণ্ঠস্বরের নমুনা ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে এই অডিওর সত্যতা আগেই যাচাই করেছিল কেন্দ্রীয় ল্যাব। এবার সেই সূত্রের জট খুলতেই অভিষেককে মুখোমুখি বসানো হয়েছিল বলে খবর।
