সিবিএসই খাতায় ডিজিটাল জালিয়াতি? সংসদীয় কমিটিতে কেন ডাক পেল দুই পড়ুয়া?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল প্রতিলিপি আপলোড নিয়ে দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও গাফিলতির বিস্তর অভিযোগের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া বিশেষ অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) বা ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো বড়সড় অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। পাশাপাশি, এই বিষয়ে তদন্তে গতি আনতে এবার সরাসরি দুই পড়ুয়াকে তলব করল সংসদীয় কমিটি।
পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে পড়ুয়ারা
কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিংহের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি-র বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয় দুই পড়ুয়াকে। উল্লেখ্য, এই দুই পড়ুয়াই প্রথম অভিযোগ তুলেছিলেন যে সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়নের পোর্টালটি মোটেও সুরক্ষিত নয় এবং খাতা দেখার বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় অনিয়ম করা হয়েছে। মঙ্গলবার আয়োজিত এই বৈঠকে ওই দুই পড়ুয়া উপস্থিত হয়ে সংসদীয় কমিটির কাছে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের বিশদ ব্যাখ্যা দেন। সূত্রের খবর, তাঁদের দেওয়া বিস্ফোরক নথি ও প্রমাণগুলি এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখছেন কমিটির সদস্যরা।
১৩২ পাতার চুক্তি বদলে মাত্র ৬ পাতা! কাঠগড়ায় ‘কোএম্পট এডুটেক’
চলতি ২০২৬ সাল থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বিশেষ ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে খাতা দেখার ব্যবস্থা করেছিল সিবিএসই। আর এই প্রযুক্তিগত দিকটি সামলানোর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘কোএম্পট এডুটেক’ নামের একটি তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি সংস্থাকে। পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত একজন দাবি করেন, এই বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি।
-
ক্লজ বাদ দেওয়ার অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, কোএম্পট এডুটেক-এর মতো একটি বিতর্কিত সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে মূল চুক্তি থেকে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং ক্লজ’ বা কালো তালিকাভুক্ত করার নিয়মটিই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
-
সংক্ষিপ্ত চুক্তিপত্র: যেখানে চুক্তিটি ১৩২ পাতার হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা কমিয়ে মাত্র ৬ পাতার করা হয়। তবে সেখানে চুক্তি বাতিল এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছিল বলেই দাবি ওই পড়ুয়ার।
শিক্ষা মহলের উদ্বেগ: সিবিএসই-র মতো দেশের অন্যতম শীর্ষ বোর্ডের পরীক্ষার খাতা দেখার পোর্টালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গলদ এবং বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের বেনিয়ম লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যতের ওপর মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ও সংসদীয় কমিটির এই হস্তক্ষেপের পর সিবিএসই বোর্ডের পক্ষ থেকে কী জবাব আসে, এখন সেটাই দেখার।
