আজকের দিনেবাংলার আয়না

শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি, জল্পনা তুঙ্গে!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কল্যাণী: মঙ্গলবার নদীয়ার কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিজে আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলি, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা— এই তিন জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে মূল আকর্ষণ ছিলেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

সম্প্রতি লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন কাকলি। এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং তাঁর বাড়িতে সিআইএসএফ (CISF) মোতায়েন করা হয়। আজ শুভেন্দুর বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিল। কাকলি ছাড়াও দেগঙ্গার সদ্যনির্বাচিত বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, হাড়োয়ার আব্দুল মতিনসহ তৃণমূলের মোট ৬ জন বিধায়ক এই বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে ঢোকার সময় কাকলি বলেন, “প্রশাসন সবার।”

বিগত তৃণমূল সরকারের রাজকীয় প্রশাসনিক বৈঠকগুলির তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগে আপনারা দেখেছেন একটা বৈঠক করতে কত কোটি টাকা ওড়ানো হত! তিন দিন ধরে এলাহি দক্ষযজ্ঞ চলত, হেলিকপ্টার নামত। আমাদের সরকার নিজেদের বৈভব বা ক্ষমতা দেখাতে চায় না। যেটুকু না করলেই নয়, ঠিক সেটুকুই করছে।”

বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধি ও বিশেষ করে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে ডাকার প্রসঙ্গে শুভেন্দু নিজের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমি আগের জমানায় কখনও কোনও বৈঠকে ডাক পাইনি। তবে আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। যারা অনেকদিন পর সত্য কথা বলছেন, তারাই বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন— এই দলটার (তৃণমূল) কোনও ভবিষ্যৎ নেই, ফলতা চতুর্থ হয়েছে এরপর আর তালিকায় আসতে পারবে না। বারাসতের সাংসদ চ্যানেলে কী বলছেন তা দেখেই সরকারকে ওনাকে ডাকার কথা বলি।”  তিনি জানান, আজকে বিশেষ বিশেষ এমপিদের মধ্যে বারাসতের এমপিকে আমরা বিশেষ বিশেষভাবে ডেকেছিলাম। তিনি সহযোগিতা করেছে।”

বিরোধী দলের এই ‘বিশেষ বিশেষ’ সাংসদ কারা? এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, “যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ বিশেষ সাংসদ। যারা বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিচ্ছেন।” এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদ কাকলির বক্তব্য শুনেছেন তিনি। এরপরই তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় রাজ্য সরকার। আগে কোনও বৈঠকে বলার সুযোগ পেতেন না, এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুযোগ করেন কাকলি। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বলার সুযোগ পেয়ে তিনি খুশি হয়েছেন। মিটিংয়ে যোগদানের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন তিনি। এদিন মিটিং শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই দাবি করেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বিডিও, ওসি’রাও বিজেপির এমপিদের ফোন ধরতেন না। এই সিস্টেম ঠিক নয়। আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে বসিরহাটের একাধিক বিরোধী দলের বিধায়করাও এসেছিলেন। তাঁদের মধ্য়ে একজনকে বলার সুযোগ দিয়েছি। আমরা চাই কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা মানুষ পান। কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়ই রাজনৈতিক কচকচানি হোক।”

মঙ্গলবার কল্যাণীতে দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়কদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। মূলত তিন জেলা অর্থাৎ নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা নিয়ে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই আমন্ত্রণ জানানো হয় বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিদ্ধান্ত নেন, এবার থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হবে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদেরও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বয়কটের রাজনীতি’র উলটো পথে হেঁটেই এহেন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই মতো এদিন কল্যাণীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়কদেরও ডাকা হয়। সেই আমন্ত্রণ পেয়েই এদিন বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁদের ডাকা নিয়েই প্রশাসনিক বৈঠকের পর মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

বৈঠক শেষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, অতীতে অনেক বৈঠকে যোগ দিলেও তাঁদের কখনও কিছু বলতে দেওয়া হতো না, কিন্তু এই ধরনের সমন্বয়পন্থী বৈঠক তিনি আগে দেখেননি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নতুন জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন এবং সরকারের ‘সংকল্প পত্র’ প্রতিটি দপ্তরে পৌঁছে দেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য, যাতে বাংলার মানুষ কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *