কাটমানি না দেওয়ায় ঘরছাড়া, ৮ বছর পর বিজেপির হাত ধরে ঘরে ফিরলেন প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- দলীয় বিধায়ককে কাটমানি ও চাকরি বিক্রির টাকা দিতে না পারায় ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। আট বছর পর অবশেষে পাঁচলায় নিজের বাড়িতে ফিরলেন প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান শেখ মুজিবর রহমান। বিজেপির উদ্যোগেই ঘরে ফেরা বলে জানালেন তিনি। বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন মুজিবর।
২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর পাঁচলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর অভিযোগ, প্রধান হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গুলশান মল্লিক পঞ্চায়েত থেকে ২৫ শতাংশ কাটমানি দাবি করেন। পাশাপাশি, স্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে জোর করে ১০ লক্ষ টাকাও নেন বলে দাবি মুজিবরের।এই নিয়ে বিধায়কের সঙ্গে মতবিরোধ হয়। এরপর তাঁকে প্রধান হিসেবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মুজিবরের দাবি, তৃণমূলে থেকেও দুর্নীতির বিরোধিতা করায় বিধায়কের ‘হার্মাদ বাহিনী’ তাঁর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। অত্যাচারে আট বছর ঘরছাড়া ছিলেন তিনি।২০২১ সালে ভোটের আগে আইএসএফ–এ যোগ দেন মুজিবর। তাতেও রেহাই মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচলার বিজেপি নেতাদের হাত ধরে ঘরে ফিরলেন তিনি। এখন বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন প্রাক্তন প্রধান। অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক গুলশান মল্লিক যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কোনও দিন পঞ্চায়েত থেকে কাটমানি বা চাকরির নামে টাকা চাননি। মুজিবর মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পাল্টা মল্লিকের অভিযোগ, মুজিবর নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। প্রধান হওয়ার এক বছরের মাথায় দল তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। আইএসএফ থেকেও বহিষ্কৃত হন। এখন বিজেপি করছেন।
আট বছর পর ঘরে ফিরলেও আতঙ্ক কাটেনি মুজিবরের। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাল্টা অভিযোগ, অন্যদিকে বিচার চেয়ে সরব প্রাক্তন প্রধান। পাঁচলার এই ঘটনা ঘিরে ফের সামনে এল শাসকদলের অন্দরের কাটমানি-বিতর্ক।
