আজকের দিনেতিলোত্তমা

বাংলায় বন্ধ ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা, আজ থেকেই চালু ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার ১০ দিন পার হতে না হতেই ফের এক নজিরবিহীন ও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে মেধার মূল্যায়নে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
​মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যে এবার থেকে বন্ধ হচ্ছে ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া সমস্ত রকম আর্থিক ভাতা। পরিবর্তে মেধা ও আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আজ থেকেই রাজ্য জুড়ে পুনরায় চালু করা হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’।

​ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

​সোমবার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরেই কৃতীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি বা কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া আর চলবে না।
​বিগত সরকারের আমলে পড়ুয়া থেকে শুরু করে ধর্মগুরু— বিভিন্ন স্তরে ধর্মের ভিত্তিতে যে সমস্ত প্রকল্প ও ভাতা চালু করা হয়েছিল, আগামী মাস থেকেই তা সম্পূর্ণ বন্ধ হতে চলেছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো যে, নতুন প্রশাসনে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না।

মেধার জয়গান: ফিরল বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ
​ধর্মীয় কোটা বন্ধ করে রাজ্যের সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে সরকার নিয়ে এলো ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’। আগে এই প্রকল্পটি চালু থাকলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

​সুবিধা পাবেন কারা? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকেই রাজ্যে চালু করা হচ্ছে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। ধর্ম নয়, মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা।” এর ফলে রাজ্যের বহু ছাত্র-ছাত্রী উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবেদনের মাধ্যম: এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য পড়ুয়াদের সরাসরি রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
​“শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই”, পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করলেন শুভেন্দু
​ধনধান্য অডিটোরিয়ামের মঞ্চ থেকে এদিন কৃতী পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের শুভকামনা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং এপিজে আব্দুল কালামের মতো মনীষীদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জীবন গড়তে শিক্ষার কোনো বিকল্প হতে পারে না।
​পড়ুয়াদের আগামী দিনের পড়াশোনা ও খরচ নিয়ে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চিন্তার কোনো কারণ নেই, সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে।” একের পর এক দুর্নীতি বিরোধী এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপের পর, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *