আজকের দিনেভারত

ভেজাল দুধের বিষক্রিয়ায় ১৩ জনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক আরও ১১

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, অমরাবতী: অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় বিষাক্ত ভেজাল দুধ পানের জেরে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েক দিনে ওই জেলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১১ জন বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। এই ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব গোদাবরী জেলার লালাচেরুভুর এবং স্বরূপনগর এলাকায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম অসুস্থতার খবর সামনে আসে। গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রবীণ মানুষ হঠাৎ করেই বমি ও তীব্র পেটে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

​রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এলাকার ভারলক্ষ্মী ডেয়ারি ফার্ম নামক একটি সংস্থা থেকে প্রায় ১০৬টি পরিবার দুধ সংগ্রহ করত। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, ওই ফার্মের দুধ থেকেই বিষক্রিয়া ছড়িয়েছে। বর্তমানে ওই ডেয়ারি থেকে দুধ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের রক্ত পরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শরীরে ইউরিয়ার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।বেড়েছে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা, যা কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। ​চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, দুধে মেশানো রাসায়নিকের প্রভাবেই এই মারণ বিষক্রিয়া।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে অন্ধ্রপ্রদেশ স্বাস্থ্য দপ্তর। আক্রান্ত গ্রামগুলিতে ইতিমিধ্যেই নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  গ্রামে চিকিৎসক ও নার্সদের একটি দল পাঠিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প খোলা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য গ্রামে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিষক্রিয়ার প্রকৃত কারণ এবং দুধে ঠিক কী মেশানো হয়েছিল তা জানতে দুধের নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
​এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতদের পরিবার ও গ্রামবাসী। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ল্যাবের রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *