আজকের দিনেতিলোত্তমা

লাশের ছাইয়ের উপরেই নতুন গোডাউন!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজন বা দু’জন নয়, প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৭ জন। আগুনের ভয়াবহতায় অনেকের দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কোথাও ঝলসানো দেহ, কোথাও আবার মৃতদের পোড়া হাড়ের টুকরো উদ্ধার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে জানা যায়, নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত খেয়াদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ওয়েটল্যান্ড বা জলাজমি ভরাট করে প্রায় ৩৫ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে বেআইনি ভাবে চারটি গোডাউন তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ছিল ডেকরেটরের গোডাউন এবং একটি ছিল মোমো তৈরির কারখানা। সূত্রের খবর, এই চারটির কোনও একটি থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এত বড় দুর্ঘটনার পর বিরোধীরা জলাজমিতে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বাস্তবে ছবিটা বদলায়নি বলেই অভিযোগ। বরং স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পরেও খেয়াদহ এলাকায় একের পর এক নতুন গোডাউন তৈরি হচ্ছে।

সোমবার খেয়াদহ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেই হোগলার জঙ্গল কেটে সেখানে মাটি ফেলা হয়েছে। সেই ভরাট জমির ওপর রেল পোল বসিয়ে বড় আকারের স্থায়ী গোডাউন তৈরির কাজ চলছে। প্রায় ৩০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এত মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও কীভাবে প্রকাশ্যে এই ধরনের নির্মাণ চলতে পারে?

এই ঘটনায় নরেন্দ্রপুর থানা এবং খেয়াদহ ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খেয়াদহের বাসিন্দা মামনি মণ্ডল ও আকরাম মোল্লার অভিযোগ, প্রতিদিন গভীর রাতে সরু রাস্তা দিয়ে মাটি বোঝাই গাড়ি এনে এলাকার পুকুর, ডোবা ও জলাজমি ভরাট করা হচ্ছে। রাস্তায় কাঁচা মাটি পড়ে থাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি বা ইকেডব্লুএনএ একাধিকবার অবৈধ নির্মাণ ভাঙার চেষ্টা করলেও বাস্তবে কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। বড় সূত্রের খবর, এলাকায় ৫ থেকে ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একাধিক গোডাউন তৈরি করা হয়েছে। ইটের দেওয়াল ও টিনের চাল দেওয়া এই গোডাউনগুলি চারপাশে থাকা হোগলার জঙ্গল ও জলাজমির ওপরেই গড়ে উঠেছে।

খেয়াদহ ছাড়াও ভাঙড়ের বেওতা ১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত, বামনঘাটা ও তারদহ এলাকায় গত কয়েক বছরে এভাবেই বহু বেআইনি গোডাউন, শেড ও কারখানা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাম নেতা তৃষার ঘোষ। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, শাসকদল ও স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে ওয়েটল্যান্ড দখল ও বেআইনি নির্মাণ চলছে।

এই বিষয়ে খেয়াদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিতা নস্করের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও উত্তর দেননি।
সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলাই বারিক বলেন, ওয়েটল্যান্ডে গোডাউন বা শেড তৈরির বিষয়ে তাঁদের কাছে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম জানান, নাজিরাবাদের ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ওপরমহল থেকে নজরে রাখা হচ্ছে। কোথাও বেআইনি কিছু ধরা পড়লে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *