রাস্তায় রক্তাক্ত কিশোর, পাশে মাছ লুঠ—মানবিকতা কি সত্যিই হারিয়ে যাচ্ছে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মানবিকতা কি আজ শুধুই শব্দ? নাকি ভিড়ের লোভের কাছে এক তরতাজা প্রাণের মূল্য শূন্য? বিহারের সীতামারহি জেলার একটি মর্মান্তিক ঘটনা সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিল।
সকালবেলা টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিল ক্লাস সেভেনের পড়ুয়া রীতেশ কুমার। বয়স মাত্র ১৩। আচমকাই দ্রুতগতিতে আসা একটি পিক-আপ ট্রাক তাকে ধাক্কা মারে। ভরা বাজারের মাঝেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। ধাক্কার অভিঘাতে উল্টে যায় ট্রাকটি, রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে শয়ে শয়ে মাছ।
দুর্ঘটনার শব্দে ছুটে আসেন আশপাশের বহু মানুষ। কিন্তু সেই ছুটে আসা কি একজন আহত শিশুকে বাঁচানোর জন্য? না। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকা কিশোরকে উপেক্ষা করেই শুরু হয় মাছ কুড়োনোর হুড়োহুড়ি। কেউ ফোন করেনি অ্যাম্বুল্যান্সে, কেউ খবর দেয়নি পুলিশে। কেউ এগিয়ে এসে ধরেনি রীতেশের হাত।
সবার চোখ ছিল রাস্তায় পড়ে থাকা মাছের দিকে। একটি প্রাণের দিকে নয়। ঝাঝিহাট গ্রামের বাসিন্দা রীতেশ কুমার যাকে পরিবার ও পাড়ার লোকেরা ভালোবেসে ডাকত ‘গোলু’। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সে। বেশ কিছুক্ষণ পরে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায় তার পরিবারের কাছে। ততক্ষণে সব শেষ। ছেলের নিথর দেহ পড়ে ছিল রাস্তায়, আর চারপাশে তখনও মানুষের ভিড়। কিন্তু কেউ আর তাকায়নি তার দিকে।
পুপরি থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রীতেশের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘাতক পিক-আপ ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। শুরু হয়েছে তদন্ত। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কিন্তু তদন্তে কি ফিরবে একটি প্রাণ?
ছেলেকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছেন রীতেশের বাবা-মা। তাঁদের বিশ্বাসই হচ্ছে না রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সন্তানের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ মাছ লুট করেছে, অথচ কেউ একবারও এগিয়ে আসেনি সাহায্যের জন্য।
প্রশ্ন উঠছে রাস্তায় পড়ে থাকা মাছ কি সত্যিই একটি তরতাজা প্রাণের থেকেও দামি? ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো কি সবাই মানুষই ছিল?
এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়। এটি আমাদের সমাজের আয়নায় দেখা এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।যেখানে লোভ মানবিকতাকে ছাপিয়ে যায়, আর এক শিশুর মৃত্যু হয়ে ওঠে নিছক একটি ‘ঘটনা’।
মানবিকতা কি সত্যিই শেষ হয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আজ আর শুধু বিহারের সীতামারহি নয় পুরো সমাজকেই দিতে হবে।
