আজকের দিনেতিলোত্তমা

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার শমীকের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাংলার পরিচিত ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী ওরফে ‘ননসেন’ এখন আলোচনায় এসেছে এক ভয়াবহ অভিযোগের কারণে। তার ভিডিও, কথাবার্তা আর ব্যঙ্গ মানুষের হাসি-হাততালি জাগাত, কিন্তু এবার সোশাল মিডিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে প্রেমিকাকে ফ্ল্যাটে আটকে রাখার, শারীরিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা এবং ধর্ষণের অভিযোগ।

এই ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। নির্যাতিতা বেহালা থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেন শমীকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতের দিকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার মামলা। কিন্তু পুলিশি জেরায় শমীক স্বীকার করেছেন, তরুণীকে তিনি ধর্ষণ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬৪ ধারায় ধর্ষণের মামলা রুজু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুক্রবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। তার আগে মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নির্যাতিতারও শরীরের পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় তিনি শমীকের ফ্ল্যাটে যান। প্রথমে কথাবার্তা স্বাভাবিক চলছিল। কিন্তু রাত ন’টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে বেরোতে চাইলে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ, তখন তাকে আটকে রাখা হয়, তার মোবাইল নেওয়া হয় এবং কেন অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছে তা জিজ্ঞেস করা হয়। এরপর মারধোর শুরু হয়। তাকে জোর করে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় এবং খুনের হুমকি দেওয়া হয়। অনুমতি ছাড়া পোশাক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং বলপূর্বক যৌন হেনস্তা করা হয়।

সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো দাবি হলো, এই সমস্ত ঘটনা শমীকের অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকাকালীন ঘটেছে। নির্যাতিতা জানিয়েছে, বারবার অনুরোধ ও কাকুতি-মিনতি করেও কোনও লাভ হয়নি। সারারাত ধরে অত্যাচার চলার ফলে তার মুখ, আঙুলসহ শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সকালে তিনি চোখ পর্যন্ত ঠিকভাবে খুলতে পারেননি। অভিযোগ, প্রায় ২৪ ঘণ্টা তাকে সেই ফ্ল্যাটেই আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়। তবু তিনি বৃহস্পতিবার পুলিশকে জানান।

এই ঘটনায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে আগেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা হয়েছিল। এবার ৬৪ ধারা—ধর্ষণ যুক্ত হওয়ায় মামলার গুরুত্ব ও অভিঘাত বেড়ে গেছে।

গ্রেপ্তারের পর ঘটনা নতুন মোড় নেয় রাজনৈতিক বিতর্কে। সোশাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা ছড়ায়। সম্প্রতি ‘বাটন’ নামের একটি ভিডিওয় শমীক বিরোধী শিবিরের হয়ে প্রচার করেছিলেন বলে দাবি করেন নেটপাড়ার একাংশ। তার ফলে শাসক দলকে টেনে এনে কুৎসা শুরু হয়েছে।

এই আবহেই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেন অভিনেতা ও জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার অরিত্র দত্ত বণিক। ফেসবুকে তিনি পোস্টে রাজনৈতিক সরলীকরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন। তার বক্তব্য, অভিযোগকারী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টে শরীরে আঘাতের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। এছাড়া তিনি জানান,

গ্রেপ্তারের আগের দিন দুপুর থেকে শমীক পলাতক ছিলেন। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে পায়নি। পরে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অরিত্র দত্ত বণিক জানান, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভিত্তিতে এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
নেটপাড়ার অন্য একাংশ অতীতের ঘটনা স্মরণ করে প্রশ্ন তুলছে। আর জি কর ইস্যুর সময় নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন শমীক অধিকারী, কিন্তু এবার প্রেমিকার উপর যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার। এই বৈপরীত্য আরও তীব্র করে তুলেছে মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *