আজকের দিনেভারত

ডেন্টাল ক্লিনিকে নাবালিকা হেনস্থার অভিযোগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মুম্বইয়ের কন্দিভালি পশ্চিম এলাকার একটি বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ক্লিনিকের এক ডেন্টিস্ট দাঁতের চিকিৎসার সময় ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেছেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নাবালিকা মেয়েটি তাঁর মায়ের সঙ্গে দাঁতের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে গিয়েছিল। চিকিৎসা শুরুর সময় মেয়েটির মা ক্লিনিকের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় ডেন্টিস্ট চিকিৎসার অজুহাতে মেয়েটির সঙ্গে অসদাচরণ করেন। মেয়েটি বিষয়টি বুঝতে পেরে ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে। মেয়ের চিৎকার শুনে তাঁর মা দ্রুত ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তখন মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে পুরো ঘটনা মাকে জানায়।

এরপরই মেয়েটির পরিবার আর দেরি না করে স্থানীয় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। নাবালিকার অভিযোগ হওয়ায় পুলিশ পকসো আইনের অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না।

এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ডেন্টিস্ট গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি ওই ডেন্টাল ক্লিনিকের কাজকর্ম, চিকিৎসার সময়কার নিয়মকানুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, চিকিৎসাকেন্দ্র যেখানে মানুষ ভরসা নিয়ে যায়, সেখানে যদি শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তা হলে তা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। অভিভাবকদের একাংশ চিকিৎসার সময় শিশুদের একা না রাখার দাবিও তুলেছেন।

পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, তদন্তে যা তথ্য সামনে আসবে, তার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় আবারও শিশু সুরক্ষা এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *