আজকের দিনেতিলোত্তমা

অপেক্ষার অবসানকালে ধর্মতলায় নয়া সরকারি বাস ডিপো

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-  বহুদিনের অপেক্ষার পর এবার ধর্মতলায় তৈরি হল নয়া সরকারি বাস ডিপো। বৃহস্পতিবার থেকেই এসপ্ল্যানেড স্টেশন ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ-এর মাঝের অংশে এই নতুন ডিপো থেকে শুরু হবে বাসের পরিষেবা। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাস ছাড়বে এবার এখান থেকেই। নতুন এই ডিপোয় যাত্রীদের জন্য বাতানুকুল অপেক্ষা গৃহ থাকছে। জোঁকা এসপ্ল্যানেড রুটে মেট্রোয় করিডরের জন্য এই বাস ডিপো অসুবিধা সৃষ্টি করছিল, সেই কারণে আগে জায়গা থেকে সরল এই ডিপো। এবার এই বাস ডিপো সরতেই মেট্রোর কাজ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জোঁকা এসপ্ল্যানেড রুটে মেট্রোয় করিডরের কাজ করছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড। তাঁদের এই কাজের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ধর্মতলায় ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন তৈরি করা। বাস ডিপো সরিয়ে দেওয়ায় কাজ দ্রুত এগোবে বলেই রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের কর্তারা মনে করছেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশনের জোড়া প্রবেশপথ এবং রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের মাঝের অংশে নতুন বাস ডিপো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে সরকারিভাবে এই নয়া ডিপো থেকে পরিষেবা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বাস ডিপোতে বাসের ঢোকা এবং বেরোনোর পথ দু’টিই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের ধর্মতলামুখী লেনে। এই ব্যবস্থায় যান নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব হবে তা খতিয়ে দেখার জন্য কলকাতা পুলিশের তরফে সময় চাওয়া হয়েছিল। এই কারণে গত ডিসেম্বর থেকে বাস ডিপো সরে যাওয়া নিয়ে জল্পনা চললেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় মাস দেড়েকেরও বেশি সময় লাগে। পুরনো সরকারি বাস ডিপো থেকে সারা দিনে বিভিন্ন রুটে একশোরও বেশি দূরপাল্লার বাস ছাড়ে। যার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম,উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, কলকাতা ট্রাম কোম্পানি এবং রাজ্য পরিবহণ নিগমের বাস রয়েছে। সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের শিলিগুড়িগামী নন এসি এবং এসি ভলভো বাস এই ডিপো থেকেই ছাড়ে।

  • এই নতুন বাস ডিপোতে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বাসের জন্য পৃথক বুকিং কাউন্টার রয়েছে। এছারাও যাত্রীদের জন্য বাতানুকূল ওয়েটিং রুম, বাসচালক এবং কর্মীদের সাময়িক বিশ্রামের জন্য বাতানুকূল ক্রু রুমও রয়েছে। যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক ‘পে অ্যান্ড ইউজ় টয়লেট’। পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার রক্ষা কমিশনের আধিকারিকদের জন্য পৃথক একটি ঘরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে নতুন এই বাস ডিপোতে। যাত্রীদের সুবিধার্থে তিনটি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো হয়েছে যার মধ্যে আট ফুট লম্বা এবং ছ’ফুট চওড়া একটি বড় ডিসপ্লে বোর্ড এবং বাকি দু’টি চার ফুট দীর্ঘ, তিন ফুট চওড়া ডিসপ্লে বোর্ড। বড় বোর্ড সাধারণ পরিসরে এবং ছোট দু’টি বোর্ড যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গায় বসানো হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে থাকছে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। বাস ডিপো বাইরের দিকে জোড়া প্রবেশপথে প্রশস্ত সাইনবোর্ডও লাগানো থাকবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চারটি ১৬ মিটারের হাই মাস্ট বাতিস্তম্ভ, চারটি ৯ মিটারের বাতিস্তম্ভ ছাড়াও আরও একাধিক বাতিস্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক নয়া এই বাস ডিপোতে।

পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমরা সব সময়ই চেষ্টা করেছি যাতে জনগণের অসুবিধা সুবিধা সবটাই মাথায় রেখে কাজ করতে। এটাও ঠিক মেট্রো অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। কাজে ক্ষেত্রে তাদেরও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা আমাদের কাজ ঠিকই করি। পরিবহণ দফতরের তরফে যা যা ইকুইপমেন্ট দরকার তা দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোকে ধন্যবাদ ওই সামান্যটুকু জমি আমাদের দেওয়ার জন্য।”

মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক, কলকাতা মেট্রো এস এস কান্নান বলেন, “কিছু মেট্রোর প্রজেক্ট ডিলে হয়েছে। এখন বাস স্ট্যান্ড সরে গিয়েছে। তবে বিসি রায় মার্কেট শিফট হচ্ছে কি না সেটাও দেখতে হবে।” সাধারণ এক যাত্রী বলেন, “এটা তে সবারই সুবিধা হবে বলে মনে হচ্ছে।”

  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *