আজকের দিনেভারত

TAMILNADU GOVERNMENT : ধর্ম বদলালেই সংরক্ষণ নয়, তামিলনাড়ু সরকারকে বড় ধাক্কা সুপ্রিম কোর্টের

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি:–  ধর্মান্তরিত হলেই সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে না। তামিলনাড়ু সরকারের (TAMILNADU GOVERNMENT) সিদ্ধান্ত খারিজ করে বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানাল, হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা অনগ্রসর মুসলিম বা বিসিএম কোটায় সংরক্ষণ পাবেন না।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে তামিলনাড়ু সরকার (TAMILNADU GOVERNMENT) নির্দেশিকা জারি করে জানায়, অনগ্রসর শ্রেণি (বিসি), অতি অনগ্রসর শ্রেণি (এমবিসি), ডিনোটিফাইড কমিউনিটি (ডিএনসি) এবং তফসিলি জাতি (এসসি) ভুক্ত যে সকল ব্যক্তি হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তাঁরা ‘বিসিএম’ শ্রেণির আওতায় কমিউনিটি সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য।

রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় মাদ্রাজ হাই কোর্টের মাদুরাই বেঞ্চে (TAMILNADU GOVERNMENT) । হাই কোর্ট রাজ্যের নির্দেশিকা বাতিল করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গত ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে যায় তামিলনাড়ু সরকার।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ হাই কোর্টের রায়ই বহাল রাখে। বেঞ্চ জানায়, “যে ব্যক্তি হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থা থেকে অ-হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থায় ধর্মান্তরিত হন, তিনি কেবল ধর্মান্তর-পূর্ব অবস্থার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক অনগ্রসরতার ভিত্তিতে সংবিধানের ১৬(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ সুবিধার দাবি করতে পারেন না।”

আদালত আরও উল্লেখ করে, ‘দ্য কনস্টিটিউশন (শিডিউলড কাস্টস) অর্ডার, ১৯৫০’ অনুযায়ী কেবল হিন্দু, বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মাবলম্বীরাই ‘তফসিলি জাতি’ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। হিন্দুধর্মে ফিরে এলেও ধর্মান্তরের আগের অনগ্রসর মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগু হবে না।

তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি ছিল, ধর্মান্তর ঘটলেই বর্ণপ্রথার সঙ্গে যুক্ত সামাজিক ও শিক্ষাগত অসুবিধাগুলো মুছে যায় না। তাই ইসলাম গ্রহণ করলেই কেউ যাতে সংরক্ষণ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা। যদিও শীর্ষ আদালতে সেই যুক্তি ধোপে টেকেনি।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে তামিলনাড়ুতে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের বিসিএম কোটায় সংরক্ষণ দেওয়ার পথ আপাতত বন্ধ হল। এই রায় ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যের সংরক্ষণ নীতির ক্ষেত্রেও নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *