তিলোত্তমাআজকের দিনে

মমতার মঞ্চে আচমকা বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ-এসআইআর তালিকায় নাম বাদ পড়াদের অধিকার ফেরাতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে দু’দিনের ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এই ধরনা। কিন্তু বিকেলের দিকে হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদ মঞ্চের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পার্শ্বশিক্ষকদের একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

​তৃণমূল সূত্রে খবর, এসআইআর তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম তোলা এবং নায্য অধিকার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রতিবাদ মঞ্চ বেঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দিনভর টানা এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ যখন ধরনা কর্মসূচি প্রায় শেষের মুখে, ঠিক তখনই একদল পার্শ্বশিক্ষক আচমকা সেখানে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

​ধর্মতলার ওই চত্বরে তখন আঁটসাঁট পুলিশি নিরাপত্তা। তার মাঝেই বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পুলিশ দ্রুত বিক্ষোভকারীদের ওই এলাকা থেকে হঠিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মঞ্চ থেকেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী।

​বিক্ষোভকারীদের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এদের এখানে কারা পাঠিয়েছে, আমি জানি। এসবের পিছনে বিজেপি। এরা সব বিজেপি মাইন্ডেড। মানুষ মারা গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা এখানে এসেছি। জানি বাকিদেরও নানা সমস্যা আছে, দাবিও আছে। তার জন্য অন্য জায়গা আছে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই সময়ে এসব করা মানায় না। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “মোদি, শাহ আর ভ্যানিশ কুমারের কাছে যান।”

দাবিপূরণে পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন নতুন নয়। শূন্যপদে নিয়োগ, বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে এর আগেও পার্শ্বশিক্ষকরা একাধিকবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। গত বছর তাঁদের সংগঠন ‘সমগ্র শিক্ষা বাঁচাও কমিটি’ নবান্ন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ধর্মতলায়। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে হাতাহাতি শুরু হয়। তখনকার মতো পিছু হঠলেও পরে নানা সময়ে পার্শ্বশিক্ষকরা নানা সময়ে কখনও কালীঘাটে, কখনও শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। তবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইমঞ্চে গিয়ে যে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাবেন, তা ভাবা যায়নি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *