এক পরিবারে একটাই টিকিট! মমতার নতুন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি কাঁটা হবে হেভিওয়েটদের পথে?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বা আসন্ন উপনির্বাচন— সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় চমক থাকতে পারে। সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এবার ‘এক পরিবার, এক টিকিট’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করতে চায় জোড়াফুল শিবির। অর্থাৎ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে টিকিট দেওয়ার চিরাচরিত প্রথা থেকে সরে আসতে পারে দল। এই জল্পনা ছড়াতেই এখন ঘুম উড়েছে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও তাঁদের পরিবারের।
তৃণমূলের অন্দরের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক রদবদলের সময় থেকেই ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে “পরিবারতন্ত্র” নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিতেই এই ‘এক পরিবার এক টিকিট’ কার্ড খেলতে চাইছে তৃণমূল।
এই নীতি কার্যকর হলে বিপাকে পড়তে পারেন দলের অনেক প্রথম সারির নেতা। বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রীসভা এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাদের পরিবারের একাধিক সদস্য সক্রিয় রাজনীতিতে ও পদে রয়েছেন।
ববি হাকিম ও শশী পাঁজা: ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম বা শশী পাঁজার কন্যা পূজা পাঁজা ইতিমধ্যেই রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়। এই ফর্মুলা মানলে মা বা বাবার বদলে কি সন্তানরা টিকিট পাবেন? নাকি অভিজ্ঞদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে?
উত্তর ২৪ পরগনার দাপুটে নেতা: জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা অন্যান্য হেভিওয়েট নেতাদের আত্মীয়-স্বজন যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আবার ২০১১ সাল থেকে এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা কলকাতা পৌরনিগমের কাউন্সিলর। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে ইতিমধ্যে দলকে বার্তা দিয়েছেন স্বর্ণকমল। তিনি চাইছেন, তাঁর আসনে ছেলে সন্দীপনকে প্রার্থী করা হোক।
আবার মানিকতলার বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত।সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর মানিকতলা আসনে উপনির্বাচনে সুপ্তি না শ্রেয়া কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছিল। শেষপর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্তিকে বেছে নেন।
বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাবা দুলাল দাস মহেশতলার বিধায়ক। সূত্রের খবর, আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে দলকে বার্তা দিয়েছেন দুলাল।
জেলার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী করবী মান্না শাসকদলের বিধায়ক। সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম। আর তাঁর স্ত্রী হরিপালের বিধায়ক। আবার ২০১১ সাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন অখিল গিরি। তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরিও শাসকদলের নেতা। কোচবিহারের দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তাঁর পুত্র সায়ন্তন গুহও শাসকদলের নেতা। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক।
দলের একাংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সামনে আসার সুযোগ বাড়বে। তবে প্রবীণ বা হেভিওয়েট নেতাদের একাংশ এতে কিছুটা চিন্তিত। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাবা বিধায়ক হলে ছেলেও নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে জমি তৈরি করে রেখেছেন।
