খুন করে রক্তপান-মাংস ভক্ষণ! হাড়হিম করা কাণ্ড, শিউরে উঠল দেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- সভ্য সমাজের বুকে এ যেন আদিম বর্বরতার এক ভয়ঙ্কর প্রতিফলন। ভরদুপুরে প্রকাশ্যে এক নাবালককে হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে খুনের পর তার রক্তপান এবং মাংস ভক্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলার সামান্যা গ্রামের এই পৈশাচিক ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত কিশোরের নাম ভরত বিশ্বকর্মা (১৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের দিদির শ্বশুরবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল ভরত। গ্রামের মাঝপথে হঠাৎই তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় গুড্ডা প্যাটেল নামে এক যুবক। অভিযোগ, পিছন থেকে প্রথমে লোহার রড দিয়ে ভরতের মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। কিশোরটি মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই শুরু হয় নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি হাতুড়ি দিয়ে ভরতের মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্রমাগত থেঁতলে দিতে থাকে ঘাতক গুড্ডা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই নাবালকের। কিন্তু এখানেই শেষ নয়; প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভরতের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মৃতদেহ থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত পান করতে শুরু করে ওই যুবক। এমনকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ থেকে মাংস কেটে সে ভক্ষণ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দিনের আলোয় এই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন গ্রামবাসীরা। অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা সাহসিকতার সঙ্গে তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। গ্রামবাসীদের দাবি, ধরা পড়ার সময়ও ঘাতক যুবক ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে তাঁদের আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। অভিযুক্ত গুড্ডা প্যাটেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কেন এমন নৃশংস কাণ্ড সে ঘটাল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। এটি কোনো মানসিক বিকৃতি নাকি এর পিছনে অন্য কোনো তান্ত্রিক যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা সামান্যা গ্রামে এখন শ্মশানের স্তব্ধতা। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— মানুষ কতটা নৃশংস হলে এই ধরণের আদিম আচরণ করতে পারে?
