আজকের দিনেতিলোত্তমা

Metro : কবি সুভাষে পুনর্নির্মাণ, অরেঞ্জ লাইনে অনিশ্চয়তা !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার মেট্রো প্রকল্পে একসঙ্গে এল দুটি বড় আপডেট। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়ে গেল কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ, যা দক্ষিণ কলকাতার যাত্রীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অন্যদিকে এখনও অচলাবস্থা কাটেনি নিউ গড়িয়া-রুবি সংযোগকারী অরেঞ্জ লাইনের কাজ নিয়ে। তবে একইসঙ্গে ব্লু লাইনের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ঘোষণায় ভবিষ্যতের মেট্রো পরিষেবা আরও উন্নত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের পুনর্নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। নতুন নকশায় স্টেশনটি সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রী পরিষেবায় একাধিক পরিবর্তন আনা হবে বলে জানা গিয়েছে।

মেট্রো সূত্রে খবর, পয়লা বৈশাখের মধ্যেই স্টেশনটি যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা গেলে দক্ষিণ কলকাতার লক্ষাধিক যাত্রী ফের স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। নতুন স্টেশন ভবন চালু হলে নিউ গড়িয়া এলাকায় যাতায়াত আরও মসৃণ হবে।

কিন্তু কবি সুভাষে কাজের গতি বাড়লেও অরেঞ্জ লাইনের ক্ষেত্রে চিত্র এখনও অনিশ্চিত। চিংড়িঘাটা এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ছ’ রাত ধরে প্রতিদিন অন্তত চার ঘণ্টা রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষের। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সেই অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ রাজ্যে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এই সময় রাস্তা বন্ধ হলে যানজটের কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, “চিংড়িঘাটা অঞ্চলে কাজ শুরু করার জন্য এখনও পুলিশের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে। আমরা আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অরেঞ্জ লাইনের সম্পূর্ণ রুট চালু করা সম্ভব হবে।”

এদিকে কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনেও শুরু হতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ আধুনিকীকরণ প্রকল্প। আগামী চার বছরের মধ্যে ব্লু লাইনের ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের মাঝের টানেলগুলিতে বসানো হবে অত্যাধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম।

পুরনো জলনির্ভর ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার বদলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এর ফলে টানেলের ভিতরে সবসময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা বাতাস বজায় থাকবে, যা যাত্রী নিরাপত্তা ও আরামের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

এই প্রকল্পে মেট্রো রেল হাত মিলিয়েছে শিনরিও সুবিধা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮৫ কোটি টাকা। লক্ষ্য, আগামী চার বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা।

প্রতিটি স্টেশনের দুই প্রান্তে ভেন্টিলেশন সিস্টেম বসানো হবে এবং পাশাপাশি দুটি স্টেশন থেকে একযোগে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ না রেখে প্রতিদিন রাতে ধাপে ধাপে এই কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে কলকাতা মেট্রো প্রকল্পে একদিকে যেমন দ্রুত অগ্রগতির ছবি ধরা পড়ছে, তেমনই কিছু বাস্তব সমস্যাও রয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার মরশুম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক অনুমতির মতো বিষয়গুলি কাজের গতি প্রভাবিত করছে। তবু একাধিক লাইনে একসঙ্গে উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজ চলায়, আগামী দিনে কলকাতা মেট্রো আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের পরিষেবা দিতে পারবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *