বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- মতুয়া ধর্মজননী বীণাপাণি দেবীর (বড়মা) তিরোধান দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিল নাগরিকত্ব বিতর্ক। বুধবার বড়মার স্মৃতি তর্পণের মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন এলেই বিজেপি নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে ‘রাজনীতির নোংরা খেলা’ শুরু করে এবং মতুয়াদের ধোঁকা দিয়ে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া ভাষায় বিজেপিকে ‘ভিলেন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের আবেগ এবং অধিকারকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে প্রতারণা চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা দশকের পর দশক ধরে এ দেশে বসবাস করছেন, ভোট দিচ্ছেন, আধার কার্ড-রেশন কার্ড রয়েছে এবং যাদের সন্তানরা এ দেশে পড়াশোনা করছে, তারা আবার নতুন করে কোন নাগরিকত্ব পাবে?” সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করাচ্ছে। অন্যায় মানব না। লড়াই চলবে।”তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই-বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে।’ তবে বাংলার মানুষের গায়ে কোনও আঁচ পড়তে দেবে না বলেও বার্তা প্রশাসনিক প্রধানের।
মমতার দাবি, সিএএ কার্যকর করার অর্থ হলো নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া। তাঁর বক্তব্য নতুন করে নাগরিকত্বের আবেদন করলে সাধারণ মানুষকে আগে নিজেকে ‘বিদেশি’ হিসেবে প্রমাণ করতে হবে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। ভোট এলেই মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে বিজেপির আনাগোনা বাড়ে, কিন্তু কাজ শেষ হয়ে গেলে তাঁদের কথা আর কেউ মনে রাখে না।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি মতুয়াদের পবিত্র ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন সৃষ্টি করছে। বড়মার উত্তরাধিকার ও তাঁর আদর্শকে কলুষিত করা হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বড়মা সারাজীবন মানুষের ঐক্যের কথা বলে গেছেন, আর আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসেই বিভাজনের রাজনীতি করছে গেরুয়া শিবির।”
মতুয়াদের আশ্বস্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এ রাজ্যে এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই মতুয়াদের উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
উন্নয়ন পর্ষদ গঠন: মতুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে পৃথক উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি।
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: বড়মার নামে বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়ন।
অধিকার রক্ষা: সাধারণ মানুষের জমির পাট্টা ও পাড়ার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই নির্বাচন থাকায় মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে বিজেপি যখন সিএএ-র তাস খেলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী ‘নাগরিকত্ব হারানো’র ভয়কে সামনে রেখে পাল্টা ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। বড়মার তিরোধান দিবসকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
