আজকের দিনেতিলোত্তমা

বেলঘরিয়ায়, রাশিয়ান বেলিড্যান্সারদের নিয়ে উদ্দাম পার্টি, ধৃত দম্পতিসহ ৭

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডীয়া বাংলা,বেলঘরিয়া: বাড়িতে বসত রাশিয়ান বেলিড্যান্সারদের নাচের আসর। গ্লাস ভর্তি দামি মদ আর টাকার ফোয়ারা— কামারহাটি পুরসভার শরৎপল্লির ওই বাড়িটি ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছিল অনেকদিন ধরেই। অবশেষে পর্দাফাঁস হলো সেই ‘উৎসবের’। বেলঘরিয়ার ওই আবাসন থেকে উদ্ধার হলো ট্রাঙ্কভর্তি নগদ এবং প্রায় ৭০ কোটি টাকার জালনোট। জালনোট কারবারের অভিযোগে দীপা ধর ও অরিন্দম ধর নামে এক দম্পতিসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

​তদন্তকারী সূত্রে খবর, কামারহাটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎপল্লির বাসিন্দা দীপা ধরের সঙ্গে কয়েক বছর আগে সোনারপুরের বাসিন্দা অরিন্দম ধরের বিয়ে হয়। ২০২৪ সালে তাঁরা নেপালে যান এবং সেখান থেকেই সম্ভবত এই আন্তর্জাতিক জালনোট চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের জালিয়াতির ধরন ছিল অভিনব:-

​ভিডিও কল কারসাজি: ব্যবসায়ীদের ভিডিও কল করে জালনোট দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হতো।
​বিনিয়োগের প্রলোভন: বিভিন্ন নামী সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করলে তা দ্বিগুণ করে দেওয়ার টোপ দেওয়া হতো।
​উদ্দাম জীবনযাপন: এই বেআইনি কারবারের টাকায় বাড়িতে চলত নামীদামি বেলিড্যান্সার ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে রাতভর পার্টি।
​রবিবার বিকেলের সেই অভিযান
​গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার হানা দেয় নেপাল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। দীপা ও অরিন্দমের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়, লোহার ট্রাঙ্কভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। ​৭০ কোটি টাকার জালনোট।
​১২টি মোবাইল ফোন ও বিলাসবহুল গাড়ি। ​ধৃতদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও রয়েছেন। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।

​এই ঘটনায় কামারহাটি এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তীব্র কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সায়নদীপ মিত্র। তিনি বলেন,শুনেছি ওঁরা খুবই গুণী মানুষ! বাড়িতে রাশিয়ান বেলিড্যান্সাররা আসত, রঙিন মদের গ্লাস নিয়ে নাচগান হতো। পুলিশ খুঁজে বের করুক এই নেপালি জালনোটের উৎস কী। কখনও খাটের তলা থেকে কোটি কোটি টাকা বেরোচ্ছে, কখনও জালনোট। এতে এলাকার সম্মান ধুলোয় মিশছে। ​তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, এই সব কালো টাকার যোগসূত্র আসলে একই কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর নেপথ্যে কোনো বড়সড় আন্তর্জাতিক পাচারচক্র কাজ করছে। জালনোটের এই পাহাড় কোথা থেকে এল এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, সেটাই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *