ঝাড়গ্রামের ১৪৫৮ আইসিডিএস কেন্দ্রে আসছে বিদ্যুৎ, গরমে স্বস্তি পাবে কচিকাঁচারা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- গ্রীষ্মের দাবদাহে নাজেহাল কচিকাঁচাদের স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ঝাড়গ্রাম জেলার ১৪৫৮টি আইসিডিএস কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে একটি করে ফ্যান, একটি টিউবলাইট এবং প্রয়োজনীয় সুইচবোর্ড। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের তরফে এই কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা।
জেলায় মোট ২৪৭৭টি আইসিডিএস কেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৭টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৪৫৮টি কেন্দ্রে সংযোগ দেওয়া হবে, পরবর্তীতে বাকি কেন্দ্রগুলিকেও এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রকল্প আধিকারিক (আইসিডিএস) তাপস কুমার মণ্ডল। তাঁর কথায়, গরমের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও সহায়িকাদের সমস্যায় পড়তে হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই এই উদ্যোগ।
জেলা আইসিডিএস দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনপুর–১ ব্লকে ১৭০টি, বিনপুর–২ ব্লকে ১৮২টি, গোপীবল্লভপুর–১ ব্লকে ১০৮টি, গোপীবল্লভপুর–২ ব্লকে ১৪৩টি, জামবনি ব্লকে ২০০টি, ঝাড়গ্রাম ব্লকে ১৯৪টি, নয়াগ্রাম ব্লকে ২৯৬টি এবং সাঁকরাইল ব্লকে ১৬৫টি আইসিডিএস কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সংযোগের জন্য ২৫৭৫ টাকা এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম কেনার জন্য ২৫০০ টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হবে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ঝাড়গ্রাম ডিভিশনের রিজিওনাল ম্যানেজার প্রদীপ সামন্ত জানিয়েছেন, আইসিডিএস দপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সংযোগের আবেদন করা হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম শহরের ননীবালা আইসিডিএস কেন্দ্রের শিক্ষিকা চন্দনা মিদ্যা চৌধুরীর মতে, গরমের কারণে শিশুরা বেশিক্ষণ কেন্দ্রে বসে থাকতে চায় না, অভিভাবকেরাও অনেক সময় পাঠাতে অনীহা দেখান। বিদ্যুৎ ও ফ্যানের ব্যবস্থা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলাবে।
এছাড়াও ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার ৬৪৮টি আইসিডিএস কেন্দ্রে ভবন সংস্কার, শৌচাগার নির্মাণ এবং কিচেন গার্ডেন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার বহু কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন না থাকায় সেগুলি কারও বাড়ির উঠোন বা ক্লাবঘরে চলছে। এ বিষয়ে জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর জানিয়েছেন, যেসব কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই সেগুলির সমীক্ষা চলছে। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর, আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সহায়তায় ধাপে ধাপে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের এই পদক্ষেপে জেলার আইসিডিএস কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের পঠন-পাঠনের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলেই আশাবাদ প্রশাসনের।
