আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নাভারত

রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় বাড়ল ৬০ টাকা, বুকিংয়ের নিয়মেও বড় বদল কেন্দ্রের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়া দিল্লি: ক্রমশ জটিল হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের  দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। একইসঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত কালোবাজারি রুখতে এবং জোগানে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে সরকারের দাবি।

​গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, যুদ্ধের প্রভাবে পেট্রোপণ্যের দাম বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কাই সত্যি করে ১৪.২ কেজি ওজনের ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ৮৭৯ টাকার সিলিন্ডার এখন কিনতে হবে ৯৩৯ টাকায়। অন্যদিকে, বড় ধাক্কা এসেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও। ১৯ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৯০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রেস্তোরাঁ ও হোটেলের খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
​বুকিংয়ের নতুন নিয়ম করা হয়েছে। আগে গ্রাহকরা ২১ দিন অন্তর সিলিন্ডার বুক করতে পারতেন, এখন থেকে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হলো। সরকারি সূত্রে খবর,  যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাপ্লাই কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে গ্যাস মজুত করতে শুরু করেছিলেন। ৫৫ দিনের বদলে ১৫ দিন অন্তর বুকিং শুরু হওয়ায় ভাঁড়ারে টান পড়ার উপক্রম হয়েছিল। দেশে এলপিজি-র মজুত ভাণ্ডারে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। সিলিন্ডার নিয়ে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসা না চলে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে তেল সংস্থাগুলি।

​তেল সংস্থাগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগে ঘরোয়া সিলিন্ডারের চাহিদা মেটানো হবে। বাড়তি জোগান থাকলে তবেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে। এর ফলে রাস্তার পাইস হোটেল থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ— সব ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

​যদিও মোদি সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে তেলের দাম বাড়বে না এবং শোধনাগারগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো এড়ানো সম্ভব হলো না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *