নামবদলে কেন্দ্রের ছাড়পত্র, ইতিহাসে নতুন নয় এই রেওয়াজ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ভোটের মুখে কেন্দ্রের ছাড়পত্র পেল কেরালার নামবদলের প্রস্তাব। এর আগে ২০২৪ সালে রাজ্য বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। দীর্ঘদিনের দাবি মালয়ালি অস্মিতার সঙ্গে যুক্ত এই নামবদল অবশেষে কার্যকর হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিদ্ধান্তটি বিজেপির পক্ষ থেকে এক ধরনের মাস্টারস্ট্রোক, যার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের আবেগকে স্পর্শ করার চেষ্টা হয়েছে।
ভারতের ইতিহাসে নামবদল অবশ্য নতুন ঘটনা নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যের নাম বদলেছে ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় দাবির ভিত্তিতে। স্বাধীনতার পর প্রথম নাম বদল হয়েছিল উত্তর প্রদেশের। ১৯৫০ সালের আগে এটি পরিচিত ছিল ‘ইউনাইটেড প্রভিন্স অব আগরা অ্যান্ড অউধ’ নামে। ২৫ জানুয়ারি ১৯৫০-এ নতুন নাম হয় উত্তরপ্রদেশ।
পরে হায়দ্রাবাদকে নিয়ে পরিবর্তন আসে। প্রথমে এটি ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার অংশ ছিল আলাদা রাজ্য হিসেবে। ১৯৪৮ সালে অন্ধ্রের সঙ্গে মিশিয়ে হায়দরাবাদ গঠন হয়। ১৯৫৬ সালে নাম হয় অন্ধ্রপ্রদেশ। আবার ২০১৪ সালে সেই অন্ধ্র ভেঙে তৈরি হয় পৃথক রাজ্য।
একইভাবে মধ্য প্রদেশের নামও বদল হয়েছিল। একসময় এটি ‘মধ্যভারত’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৬ সালে বিন্ধ্য প্রদেশ ও ভোপাল মিশে নতুন নাম মধ্যপ্রদেশ হয়, ভৌগলিক কারণেই এই নাম।
ব্রিটিশ আমলের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি স্বাধীনতার পর হয়ে যায় শুধু মাদ্রাজ রাজ্য। পরে সেটি ভেঙে তৈরি হয় তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেরালার অংশ। ১৯৬৮ সালে মাদ্রাজের নতুন নাম হয় তামিলনাড়ু।
এদিকে কর্ণাটকের নাম বদল হয়েছিল ১৯৫৬ সালে আগের নাম মহীশূর। ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এই পরিবর্তন।
পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড ২০০৬ সালে উত্তরাঞ্চল থেকে নতুন নাম পায়, কারণ পাহাড়ি অঞ্চলের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরা ছিল লক্ষ্য।
একইভাবে ওড়িষার নাম বদল হয় ২০১০ সালে। স্থানীয় ভাষা ও উচ্চারণকে গুরুত্ব দিয়ে ‘উড়িষ্যা’ থেকে ‘ওড়িশা’ করা হয় নাম।
উত্তর-পূর্বের রাজ্য অরুণাচলপ্রদেশ ও আগে পরিচিত ছিল ‘নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি’ নামে। ১৯৭২ সালে সেটির নাম পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নামবদল নতুন নয়। ভাষা, সংস্কৃতি, ভৌগলিক পরিচয় এবং স্থানীয় দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বারবার এই পরিবর্তন হয়েছে সেই ধারাতেই এবার নবতম সংযোজন হতে চলেছে কেরালা।
