‘বাংলাকে যাঁরা ভালবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালবাসে’, শপথের দিনেই আর এন রবিকে সৌজন্যের বার্তা মমতার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে পশ্চিমবঙ্গের ২২ তম রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (আর এন রবি)। বৃহস্পতিবার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রথা মেনেই উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও বেশি চর্চায় উঠে এল অনুষ্ঠান শেষে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সেই সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা। সূত্রের খবর, প্রথম সাক্ষাতেই নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “বাংলাকে যাঁরা ভালবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালবাসে।”
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সি ভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফা এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবির বাংলায় আসা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন। আনন্দ বোসকে ‘ভয় দেখিয়ে’ সরানো হয়েছে। লোকভবনকে বিজেপির ‘দলীয় অফিস’ বানানোর চেষ্টা চলছে। আর এন রবিকে ‘বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার’ বলেও আক্রমণ করেছিলেন তিনি। তামিলনাড়ু ও নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল থাকাকালীন অবিজেপি সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাতের ইতিহাস মাথায় রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকে সরব ছিলেন। তবে এদিন রাজভবনের অন্দরে সেই তিক্ততা সরিয়ে সৌজন্যই প্রাধান্য পেল।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর একটি সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। প্রথা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের চা-চক্রে যাওয়ার কথা থাকলেও, তিনি সরাসরি ভিজিটার্স রুমে চলে যান। মুখ্যমন্ত্রী যখন থ্রোন রুম থেকে বেরিয়ে আসছেন, তখনই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী তাঁকে জানান যে রাজ্যপাল তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। এরপর করিডরেই দেখা হয় দু’জনের। মুখ্যমন্ত্রীকে আসতে দেখে সস্ত্রীক বেরিয়ে আসেন আর এন রবি। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সৌজন্যের সাথে। রাজ্যপালের স্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। কুশল বিনিময় করেন। নতুন রাজ্যপালকে বাংলার পক্ষ থেকে ভালবাসার বার্তা দেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কৌশলী চাল চেলেছেন। একদিকে তিনি যেমন সৌজন্য বজায় রাখলেন, অন্যদিকে পরোক্ষভাবে রবিকে মনে করিয়ে দিলেন যে, তামিলনাড়ু বা নাগাল্যান্ডের মতো সংঘাতের পথ বেছে না নিয়ে বাংলার মানুষের আবেগ বুঝে চললে তবেই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের মুখে রাজভবন ও নবান্নের এই ‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ সম্পর্ক কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।
