জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে অপমানিত চন্দ্রিমা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসঙ্গতি এবং ‘SIR’ প্রক্রিয়া নিয়ে নালিশ জানাতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নজিরবিহীন তিক্ততার মুখোমুখি হলেন রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধিরা। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে আলোচনার মাঝেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের অভিযোগ, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার বদলে কমিশন এখন বিজেপির দেখানো পথেই হাঁটছে।
বৈঠক চলাকালীন পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ভোটার তালিকার গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, চন্দ্রিমা কথা বলার মাঝেই ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি পালটা প্রশ্ন করেন, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে?
মুখ্য কমিশনার অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে “Don’t Shout” (চিৎকার করবেন না) বলে ধমক দেন বলে অভিযোগ। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, “কীভাবে একজন মহিলার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারেন উনি? সুপ্রিম কোর্টে গেছি বেশ করেছি। আমার রাজ্যের মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্যই গিয়েছি। বিষয়টি যদি সুপ্রিম কোর্টেই থাকে, তবে আমাদের আলোচনার জন্য ডাকা হল কেন?”
কমিশনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিরহাদ হাকিম সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি বাংলায় বিদেশি অনুপ্রবেশকারী নিয়ে যে বয়ান তৈরি করতে চেয়েছে, কমিশন সেই ফাঁদেই পা দিয়েছে। তাঁর দাবি, গত দু’মাসের এসআইআর প্রসেসে কোনও বিদেশি প্রমাণিত হয়নি, অথচ সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফিরহাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কমিশন যদি বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেয়, তবে তারা অসংবিধানিক কাজ করছে।
তৃণমূলের প্রধান তিনটি প্রশ্ন ছিল- তথ্যগত অসঙ্গতির দোহাই দিয়ে কেন এত বিপুল সংখ্যক নাম ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হলো? ফর্ম ৭ নিয়ে যে বিশাল গরমিলের অভিযোগ উঠছে, তার দায় কে নেবে?
নিরপেক্ষতা: কমিশন কেন একটি সাংবিধানিক ও নিরপেক্ষ সংস্থার মতো আচরণ করছে না?
কমিশনের এই ‘অসহযোগিতা’ ও মুখ্য কমিশনারের মেজাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চন্দ্রিমা-ফিরহাদদের সাফ কথা, বাংলার বৈধ ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চক্রান্ত তাঁরা কোনওভাবেই সফল হতে দেবেন না।
