তেল-গ্যাসের দাম বাড়বে না, আশ্বাস মোদি সরকারের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার মাঝেও ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা থাকা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম যাতে কোনোভাবেই না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও তেল সংস্থাগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সংকটকে অজুহাত করে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপানো যাবে না। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজন হলে উৎপাদন শুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপও নিতে পারে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং দেশের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেলের মজুদ রয়েছে।
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবরটি এসেছে ওয়াশিংটন থেকে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রশাসন ভারতকে ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে, যার মাধ্যমে ভারত কোনো বাধা ছাড়াই রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে আসা অপরিশোধিত তেল কিনতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে হরমোজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ভারতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ট্রাম্প প্রশাসন এই নমনীয়তা দেখিয়েছে। এই ৩০ দিনের ছাড়ের ফলে মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা বা বন্দরে পৌঁছানো রুশ তেল সহজেই ভারতীয় শোধনাগারগুলো কিনতে পারবে। এর ফলে তেলের আমদানিতে খরচ কমবে, যা সরাসরি দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
ভারত বর্তমানে তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫% তেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ভারত গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ার থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল কিনছে। আমেরিকার এই সাম্প্রতিক ছাড়পত্র ভারতের কূটনীতির এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, একদিকে রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল এবং অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকি ও শুল্ক নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই দেশে তেল-গ্যাসের দাম আপাতত বাড়ছে না।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, পেট্রোল-ডিজেলের মজুত নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। সরকার ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষের পকেটে যাতে টান না পড়ে, তার জন্য সবরকম বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
