আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়না

নিপা শনাক্তে বাঙালি বিজ্ঞানীর নতুন কিট

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা আর জ্বর এই উপসর্গগুলো অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই মনে হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই একই উপসর্গের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর নিপা ভাইরাস সংক্রমণ। এই রোগ খুব দ্রুত গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই সময়মতো রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত জরুরি। এই কারণেই বড় সাফল্য এসেছে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর হাত ধরে।

পুরুলিয়া জেলার হুড়ার বড়গ্রামের ছেলে শ্যামসুন্দর নন্দী দীর্ঘদিন গবেষণা করে আবিষ্কার করেছেন একটি বিশেষ পরীক্ষার কিট ‘আরটি-ল্যাম্প অ্যাসে’। এই কিটের সাহায্যে দ্রুত বোঝা যাবে কোনও ব্যক্তি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা। তিনি বর্তমানে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ম্যাডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)–এর অধীন ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ ভিরোলজির মুম্বই শাখায় সায়েন্টিস্ট-ই পদে কর্মরত। তাঁর সঙ্গে এই গবেষণায় কাজ করেছেন আরও চার বিজ্ঞানী সোনালি সাওয়ান্ত, যাদব প্রজ্ঞা, শেতে–আইচ অনিতা এবং জগদীশ দেশপান্ডে।

ভারতে প্রথম নিপা সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে। এত বছর পরও এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও টিকা বা ওষুধ নেই। তাই দ্রুত রোগ শনাক্ত করাই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা। কারণ, যত তাড়াতাড়ি জানা যাবে রোগী নিপায় আক্রান্ত, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে।

‘আরটি-ল্যাম্প অ্যাসে’ কিট কীভাবে কাজ করে? বিজ্ঞানী শ্যামসুন্দরের কথায়, কারও শরীরে ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁর সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড বা মূত্রের নমুনা এই কিটের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যাবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জানা যাবে নিপা ভাইরাস আছে কি না। তবে এই পরীক্ষা সাধারণ জায়গায় করা যাবে না। নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে, সম্পূর্ণ সুরক্ষা মেনে পিপিই কিট, এন–৯৫ মাস্ক এবং গ্লাভস পরে পরীক্ষা করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ার পর আইসিএমআর ইতিমধ্যে তিনটি সংস্থাকে এই কিট তৈরির অনুমতি দিয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই বৃহৎ পরিসরে এই কিট ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগেও শ্যামসুন্দর নন্দী করোনা, সিলিকোসিস এবং এমপক্স নির্ণয়ের কিট তৈরি করেছেন। সেগুলিও আইসিএমআর এর অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি কতটা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমী।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লিতে ইন্ডিয়ান ভিরোলজিল্যাল সোসাইটির এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই আবিষ্কারের জন্য তাঁকে ‘বেস্ট ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। নিজের এই সাফল্য তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর স্কুলের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক অবনী সৎপতি, তাঁর প্রয়াত বাবা হংসেশ্বর নন্দী এবং মা চম্পারানি নন্দীকে। একটি ছোট গ্রামের ছেলের এমন বড় সাফল্য শুধু পুরুলিয়া নয়, গোটা বাংলার গর্ব। প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই কিট নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এমনটাই আশা করছেন চিকিৎসক ও গবেষক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *