Gaighata : শ্বশুরবাড়ির পাশের আমবাগানে যুবকের দেহ উদ্ধার !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- শ্বশুরবাড়ির পাশের আমবাগান থেকে যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে অবশেষে খুনের অভিযোগে মৃত যুবকের স্ত্রীর প্রেমিককে গ্রেফতার করল গাইঘাটা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম আনন্দ রায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে অভিযুক্ত আনন্দ রায়কে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বাড়ি বনগাঁ থানার আরএস মাঠ এলাকাতে। পুলিশ দাবি করেছে, মৃত যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক ছিল আনন্দের। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ধৃতকে।
মৃত যুবকের নাম চিন্ময় দে। তাঁর বাড়ি বনগাঁ এলাকায়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই চিন্ময় ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। অভিযোগ, চিন্ময়ের স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দ রায়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত অশান্তির জেরেই চিন্ময়ের স্ত্রী গাইঘাটায় তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যান।
কয়েক মাস আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতেই চিন্ময় গাইঘাটায় শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। কয়েকদিন পর শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি আমবাগানে চিন্ময়ের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, চিন্ময়ের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃতের মা জানান, তাঁর ছেলের শরীর ছিল ক্ষতবিক্ষত। সেই থেকেই পরিবারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় যে চিন্ময়কে খুন করা হয়েছে। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময়ের স্ত্রীর প্রেমিক আনন্দ রায়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ মঙ্গলবার আনন্দ রায়কে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই খুনে মৃতের স্ত্রীর কোনও ভূমিকা বা যোগসাজশ রয়েছে কিনা, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত এখনও চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।
