আজকের দিনেবাংলার আয়না

Pandabeswar-Dark Mine : ২০০ ফুট নীচে থমকে ডুলি, অন্ধকার খনিতে আটকে ১২ শ্রমিক! পাণ্ডবেশ্বরে উৎকণ্ঠা !

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পাণ্ডবেশ্বর:- পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে চরম উৎকণ্ঠা। কুমারডিহি কোলিয়ারির ২০০ ফুট গভীরে থমকে গেল ডুলি। ভিতরে আটকে পড়লেন ১২ জন শ্রমিক। ঘটনার চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি তাঁদের। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।(Pandabeswar-Dark Mine)

সোমবার সন্ধ্যায় অন্যান্য দিনের মতোই কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল কুমারডিহি কোলিয়ারিতে। শ্রমিকরা নীচে নেমে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যার পর কাজ শেষে ডুলি করে উপরে ওঠার সময় আচমকাই বিপত্তি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ২০০ ফুট গভীরে মাঝপথেই থমকে যায় ডুলিটি। মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকার খনিতে আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খনির মুখে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। কান্নায় ভেঙে পড়েন ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের চোখেমুখে শুধুই উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষা। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জীতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।(Pandabeswar-Dark Mine)

খনি কর্তৃপক্ষের তরফে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে উপরে থাকা কর্মীদের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মনোবল ধরে রাখতে ক্রমাগত কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি দড়ির মাধ্যমে তাঁদের কাছে পানীয় জল ও শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে। তবে দীর্ঘক্ষণ গভীর খনিতে আটকে থাকায় তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই ঘটনায় ফের বড়সড় প্রশ্নের মুখে ECL কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ। সহকর্মী শ্রমিকদের অভিযোগ, কুমারডিহি কোলিয়ারিতে এটি নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই ডুলিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, কখনও দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন খনিতে নামতে হয় তাঁদের। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকদের একাংশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খনি আধিকারিক জানিয়েছেন, যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই এই বিপত্তি, দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।(Pandabeswar-Dark Mine)

আপাতত গোটা পাণ্ডবেশ্বর তাকিয়ে রয়েছে খনির মুখের দিকে। একটাই প্রার্থনা, ১২ জন শ্রমিক যাতে সুস্থ ও নিরাপদে উপরে ফিরে আসেন। উদ্ধারকাজ শেষ হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলেই আশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *