মোদি মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর জল্পনা! নতুন উপপ্রধানমন্ত্রী কি পেতে চলেছে দেশ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তৃতীয় এনডিএ সরকারের দুই বছর পূর্ণ হতেই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আসন্ন রদবদল। বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য বলছে, মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঠিক দুই বছর পরেই মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুধু মন্ত্রিসভাই নয়, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাস কেটে গেলেও এখনও তাঁর পূর্ণাঙ্গ ‘টিম’ বা কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে এবার দিল্লির অলিন্দে একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা এবং বিজেপির সংগঠনে সাযুজ্য বজায় রেখে এক মহাবদলের ছক কষা হচ্ছে।
রদবদলের চাবিকাঠি: কিছু মুখ সংগঠনে, কিছু নতুন সুযোগ
বিজেপির শীর্ষ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবার মন্ত্রিসভার পরিবর্তন এবং দলের সাংগঠনিক সংস্কার একে অপরের হাত ধরাধরি করে চলবে।
-
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছাঁটাই: একাধিক বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওপর ঝুলছে পারফরম্যান্সের খাঁড়া। অন্তত ৭-৮ জন বর্তমান মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে ছুটি দিয়ে দলের মূল সংগঠনে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
-
নতুনদের সুযোগ: একইভাবে রাজ্যসভার সাংসদ বা ভালো কাজ করা অন্তত ৭-৮ জন নতুন মুখকে প্রথমবার মোদি মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে।
-
জোটের ভারসাম্য: শরিক দলগুলোর সমীকরণ ধরে রাখতে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে মন্ত্রিত্বের ভাগাভাগিতে বিশেষ চমক থাকতে পারে।
লালকৃষ্ণ আডবাণীর পর আবার উপপ্রধানমন্ত্রী পদ? তুঙ্গে জল্পনা
তবে রদবদলের এই স্বাভাবিক জল্পনাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে একটি বড় খবর। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি— বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশে একজন ‘উপপ্রধানমন্ত্রী’ (Deputy Prime Minister) নিয়োগ করার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।
উল্লেখ্য, ভারতের সংবিধানে ‘উপপ্রধানমন্ত্রী’ পদের কোনও উল্লেখ নেই, এটি মূলত একটি আলঙ্কারিক পদ। তবে জোটের সমীকরণ বা দলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে অতীতে ভারত ৭ বার এই পদের সাক্ষী থেকেছে। দেশের শেষ উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী, যিনি ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাজপেয়ী সরকারে এই দায়িত্ব সামলেছেন। আডবাণীর পর মনমোহন সিংয়ের ১০ বছর এবং মোদির বিগত ১২ বছরের শাসনে এই পদে কাউকেই দেখা যায়নি।
তবে রাজনৈতিক মহলে এবার যে দু’টি নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো: সম্ভাব্য দাবিদাররাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কারন- অমিত শাহ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)মোদি সরকার ও দল— দুই জায়গাতেই তাঁর প্রভাব প্রশ্নাতীত। বাংলায় অভাবনীয় রাজনৈতিক সাফল্যের পর তাঁকে পুরস্কার বা সম্মান জানাতে এই পদে বসানোর জল্পনা তীব্র। নীতীশ কুমার (জেডিইউ প্রধান)বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হলেও বড় কোনও পদে পুনর্বাসন দেওয়া হয়নি। জেডিইউ নেতারা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যেই নীতীশকে উপপ্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলতে শুরু করেছেন।
যদিও সরকার বা বিজেপির উচ্চপদস্থ কোনও নেতা এই উপপ্রধানমন্ত্রী পদের জল্পনা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ভারত আবার নতুন কোনও উপপ্রধানমন্ত্রী পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে তৃতীয় মোদি সরকারের এই রদবদল যে জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় ওলটপালট আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
