চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আর্জি: কলকাতা হাই কোর্টে বড় ধাক্কা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আইনি জটিলতার জেরে ফের বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। আবেদন জানিয়েছিলেন মামলাটির দ্রুত শুনানির। কিন্তু বুধবার হাই কোর্ট তাঁর সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিয়ম মেনেই এই মামলার শুনানি হবে, কোনও বিশেষ দ্রুততা দেখানো হবে না।
কেন বিদেশ যাওয়ার জন্য আদালতের অনুমতি প্রয়োজন?
কয়েক বছর আগে একটি দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর চোখের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে। তারপর থেকেই চোখের মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। দেশের একাধিক নামী হাসপাতাল ছাড়াও এর আগে চিকিৎসার জন্য একাধিকবার বিদেশেও গিয়েছেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল এবং একাধিক মামলায় নাম জড়ানোর কারণে আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ। বিধানসভায় সই কাণ্ড থেকে শুরু করে ভোটপ্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্য— একাধিক বিষয়ে বর্তমানে সিআইডি-র রাডারে রয়েছেন তিনি। একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট থেকে তিনি আইনি রক্ষাকবচ পেলেও, সেই রক্ষাকবচের শর্তেই আটকে রয়েছে তাঁর বিদেশ যাত্রা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।
কী ঘটল আদালতে?
সেই শর্ত মেনেই গত মঙ্গলবার চিকিৎসার কারণে এক সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর চোখের চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেকের আইনজীবীর এই ‘দ্রুত শুনানির’ আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত সাফ জানায়, কজলিস্ট বা তালিকায় যত নম্বরে অভিষেকের মামলাটি রয়েছে, সেই নিয়ম এবং ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই শুনানি হবে। আলাদা করে কোনও দ্রুত শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে না।
হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ যাত্রা আপাতত ঝুলেই রইল। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে কবে এই মামলার শুনানি হয় এবং আদালত তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
