আজকের দিনেবাংলার আয়না

পাহাড়ে পর্যটকের ঢল, গ্রিন করিডরও অচল! পিছিয়ে গেল দার্জিলিং-বেঙ্গল সাফারির বাঘ বিনিময়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দার্জিলিং :- দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে এখন পর্যটকদের ভিড় তুঙ্গে। গরমের ছুটিতে হাজার হাজার পর্যটক শৈলশহরে ভিড় জমিয়েছেন, আর সেই চাপেই কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতির জেরেই আপাতত পিছিয়ে গেল বেঙ্গল সাফারি ও দার্জিলিং চিড়িয়াখানার মধ্যে বাঘ বিনিময় কর্মসূচি।

জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং প্রজনন সমস্যা দূর করার উদ্দেশ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক থেকে একটি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনীকে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে আনা হবে। একই সঙ্গে বেঙ্গল সাফারি থেকে একটি হলুদ-কালো ডোরাকাটা বাঘিনীকে পাঠানো হবে দার্জিলিংয়ে। গত বৃহস্পতিবার এই বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও পর্যটকদের গাড়ির যানজটে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

মূল সমস্যা তৈরি করেছে দার্জিলিংয়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জোড়বাংলো এলাকা। সাধারণ সময়ে বেঙ্গল সাফারি থেকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। বিশেষ ব্যবস্থায় গ্রিন করিডর তৈরি করা গেলে সময় আরও কমানো সম্ভব হবে।মাত্র ১২ কিলোমিটারের রাস্তা পেরোতে যেখানে সাধারণত ৪৫ মিনিট সময় লাগে, বর্তমানে জোড়বাংলোর রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনকে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, “বাঘ পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রাণীগুলিকে বিশেষ খাঁচায় নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হলেও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই গ্রিন করিডরের সুবিধা থাকলেও পাহাড়ি রাস্তায় যখন চারদিকে যানজট, তখন সেই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম”। ফলে আপাতত বাঘ স্থানান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।তবে এই বিলম্ব অল্প কিছুদিনের বলেই মনে করছে রাজ্য জু অথরিটি। তাদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্যটকদের চাপ কিছুটা কমলে আবার নতুন করে দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসের মধ্যেই বেঙ্গল সাফারি ও দার্জিলিং চিড়িয়াখানার মধ্যে বাঘ বিনিময়ের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। আপাতত পাহাড়ের যানজটই হয়ে উঠেছে দুই বাঘিনীর যাত্রাপথের সবচেয়ে বড় বাধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *