‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ থেকে বাদ পড়তে পারেন সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি মহিলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে আজ, বুধবার থেকেই পথ চলা শুরু করছে নতুন কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মঙ্গলবার সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পর, আজ বিকেল থেকেই নবান্ন থেকে এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই মহিলারা মাসে ৩,০০০ টাকা পাওয়ার এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে, যার জেরে শুরুতেই বাদ পড়তে পারেন লক্ষাধিক আবেদনকারী।
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’: কাটল ধোঁয়াশা
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই মহিলাদের মনে একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর দেড় হাজার টাকা কি তবে বন্ধ হয়ে যাবে? সেই ধোঁয়াশা মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতদিন না ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে, ততদিন মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা আগের মতোই পেতে থাকবেন। পরবর্তীতে স্ক্রুটিনি বা ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
যোগ্য-অযোগ্য বাছতে সরকারের হাতিয়ার ‘এসআইআর’
বিগত সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ২ কোটিরও বেশি মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতামান স্থির করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সকলেই এই সুবিধা পাবেন না। আর এখানেই যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করাটা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই কাজ নিখুঁতভাবে করতে সরকারের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এসআইআর বাদের তালিকা। প্রশাসন সূত্রে খবর:
-
এসআইআর-এ ইতিমধ্যেই বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যার মধ্যে মহিলার সংখ্যা প্রায় ২৯ লক্ষ।
-
এসআইআর-এর তালিকায় যাঁদের নাম ওঠেনি, তাঁরা গোড়াতেই এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন।
-
জেলাভিত্তিক প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় স্থানান্তরের যোগ্যতার নিরিখে আপাতত ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন মহিলাকে বাদের তালিকায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
-
এই বাদ পড়া নামের সিংহভাগই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।
১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয়: এই বিশাল সংখ্যক অযোগ্য আবেদনকারী প্রাথমিক তালিকায় বাদ পড়ার কারণে সরকারের রাজকোষে প্রতি মাসে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে চলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
জেলা স্তরে স্ক্রুটিনির রূপরেখা: কীভাবে কাজ করবে প্রশাসন?
এত বড় অংশের উপভোক্তার তথ্য যাচাইয়ের কাজকে আধিকারিকরা “খড়ের গাদায় সূচ খোঁজা”-র সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে কাজ সহজ করতে জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। সঠিক মূল্যায়নের জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করা যেতে পারে:
| যাচাইয়ের মাধ্যম | করনীয় পদক্ষেপ |
| ত্রিমুখী তথ্য যাচাই | আবেদনকারীদের নাম, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে কোনো ভুয়ো আবেদন না থাকে। |
| জন্ম-মৃত্যু পোর্টাল | সরকারি জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পোর্টালটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে মৃত মহিলা উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে সহজে বাদ দেওয়া যায়। |
| জেলা ট্রাইব্যুনাল নজরদারি | এসআইআর তালিকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার ট্রাইব্যুনালগুলোতে যাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে, তাঁদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। |
আজ বিকেল থেকে নবান্ন সহ জেলায় জেলায় ফর্ম বিলি এবং স্ক্রুটিনির কাজ একসাথেই সমান্তরালভাবে এগোবে। প্রশাসন আশাবাদী, এই কঠোর স্ক্রুটিনির ফলে প্রকৃত অভাবী এবং যোগ্য মহিলারাই সরাসরি এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
