আজকের দিনেগ্রীন রুম

সরস্বতী পুজোর সাজেই ফুটুক শৈশবের আনন্দ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সরস্বতী পুজোর সকালটা ছোটদের কাছে অন্যরকম। ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে অঞ্জলি দেওয়া, তারপর পরিচিত মুখগুলোর ভিড়ে মিশে স্কুলে যাওয়া—এই দিনটার জন্য সারা বছরই যেন অপেক্ষা করে থাকে খুদেরা। এদিন মায়ের আলমারিতে হাত দেওয়ার অনুমতি যেমন পাওয়া যায়, তেমনই নিজের মতো করে সাজতে পারার আনন্দটাও আলাদা।

একসময় সরস্বতী পুজো মানেই ছিল ছোটদের হলুদ তাঁতের শাড়ি। কোথাও হালকা সুতোর কাজ, কোথাও বা সামান্য ফ্যাব্রিকের ছোঁয়া। ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও থাকত সেই একই সরল কারুকাজ। সেই সাজেই ফুটে উঠত পুজোর সকাল।

সময় বদলেছে, বদলেছে সাজের ভাবনাও। এখন ছোটদের শাড়িতেও এসেছে নানা নতুনত্ব। বড়দের মতো খুদেদের জন্যও পাওয়া যাচ্ছে জামদানি শাড়ি—হালকা, আরামদায়ক, আবার দেখতে ভীষণ সুন্দর। সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ থাকলে সাজটা আরও পূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরস্বতী পুজোর বাজারে এখন বেশ চোখে পড়ছে অ্যাপ্লিকের কাজ করা শাড়ি। শাড়ির গায়ে লেখা স্বরবর্ণ আর ব্যঞ্জনবর্ণ যেন এই দিনের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। পাড়ে থাকছে ছোট ছোট নকশার চমক, যা সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করে। ইদানীং ছোটদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গামছা শাড়ি। সুতির শাড়িতে গামছার ছোঁয়া এনে দেয় গ্রামবাংলার স্নিগ্ধতা। এমন শাড়িতে খুদে কন্যাকে সাজালে সহজেই নজর কেড়ে নেবে সে।

শিশুদের জন্য হাকোবা শাড়িও ভাল বিকল্প। হালকা কাজের এই শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ সহজেই পাওয়া যায়, ফলে সাজাতে কোনও ঝামেলা নেই। শাড়ির বদলে চাইলে খুদেকে পরাতে পারেন ফ্রকও। বাজারে এখন নানা ধরনের ফ্রক পাওয়া যায়। জামদানি ফ্রক, ফ্যাব্রিকের কাজ করা ফ্রক কিংবা স্বরবর্ণ–ব্যঞ্জনবর্ণ লেখা অ্যাপ্লিকের ফ্রক। দেখতে সুন্দর, পরতেও আরাম, দামও সাধ্যের মধ্যে।

মেয়েদের তুলনায় ছোট ছেলেদের পোশাকের বিকল্প একটু কম হলেও সরস্বতী পুজোয় পাঞ্জাবিই ভরসা। অ্যাপ্লিকের কাজ করা হোক কিংবা তসর বা ব্রোকেডের পাঞ্জাবি—যে কোনওটিই খুদেকে আলাদা করে তুলে ধরবে। পুজোর ভিড়েও তার দিকে তাকিয়ে থাকবেন অনেকেই।

শেষ পর্যন্ত, সরস্বতী পুজোর সাজ মানে কেবল ফ্যাশন নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শৈশবের আনন্দ, নিষ্পাপ উচ্ছ্বাস আর একরাশ স্মৃতি। আর সেই সাজেই যেন খুদেদের পুজোর সকালটা হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *