আজকের দিনেবাংলার আয়না

মুকুটমণিপুরে কমছে পরিযায়ী পাখি, উদ্বিগ্ন বন দফতর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাঁকুড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুর। প্রতি বছর শীত এলেই এই জলাধারকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এক অনন্য প্রাকৃতিক চিত্র—দেশ-বিদেশ থেকে উড়ে আসে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি। জলাধারের বিস্তীর্ণ জলরাশি, আশপাশের পাহাড় ও ঝোপঝাড় দীর্ঘদিন ধরেই এই পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চলতি বছরে সেই চেনা ছবিতেই বড়সড় বদল ধরা পড়েছে।
সম্প্রতি বন দফতর ও একটি পক্ষী গবেষণা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মুকুটমণিপুর জলাধারে নিয়মমাফিক পক্ষী গণনা করা হয়। সেই গণনার ফলাফল হাতে আসতেই বন দফতরের অন্দরে রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরেই ধীরে ধীরে কমছিল পরিযায়ী পাখির সংখ্যা। তবে চলতি বছরে সেই হ্রাসের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু সংখ্যার ঘাটতিই নয়, নর্দার্ন পিনটেলের মতো বেশ কয়েকটি পরিচিত প্রজাতির পরিযায়ী পাখিও এবার মুকুটমণিপুরে দেখা যায়নি।

বাঁকুড়া তো বটেই, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুর। পর্যটনের পাশাপাশি এই জলাধার দীর্ঘদিন ধরে পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। শীতের মরসুমে জলাধারের জলে সারাদিন ধরে হাজার হাজার পাখির ওড়াউড়ি দেখতেই ভিড় করেন পর্যটকেরা। সেই চিত্র বদলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় বন দফতর ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

পক্ষী গবেষক ও বন দফতরের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, পরিযায়ী পাখির সংখ্যা হ্রাসের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। জলাধার সংলগ্ন কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জলাধারের জলের মান খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহারও জল দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্যটকদের নিয়ে জলাধারে অবাধে মোটরচালিত নৌকার চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণ এবং নিয়ম না মেনে মাছ ধরার জালের ব্যবহার সব মিলিয়ে মুকুটমণিপুর জলাধারকে পরিযায়ী পাখিরা আর আগের মতো নিরাপদ মনে করছে না বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা হ্রাসের প্রকৃত কারণ জানতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে বন দফতর। জলাধারের জলের মান পরীক্ষা, মোটরচালিত নৌকার চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, মাছ ধরার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম আরোপ এবং প্লাস্টিক ব্যবহারে রাশ টানার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের জন্য আরও বিস্তারিত পক্ষী গণনা ও পরিবেশ সমীক্ষার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে মুকুটমণিপুর জলাধার তার পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্ব হারাতে পারে। আর তাতে শুধু প্রাকৃতিক ভারসাম্যই নয়, পর্যটনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *