মাধ্যমিক পাশে মিলবে “বেকার ভাতা”
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- একুশ বছর পার এবং মাধ্যমিক পাশ করেছেন। চাকরির খোঁজে রয়েছেন, কিন্তু এখনও কাজ জোটেনি। বাংলার এমন বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। প্রকল্পের নাম ‘যুব সাথী’। এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন।
এই টাকা দেওয়া হবে টানা পাঁচ বছর। অর্থাৎ বছরে মিলবে ১৮ হাজার টাকা এবং পাঁচ বছরে মোট ৯০ হাজার টাকা। পাঁচ বছর পর প্রকল্পটি আবার পর্যালোচনা করা হবে। সেই সময়েও যদি কেউ চাকরি না পান এবং বয়স ৪০ বছরের কম থাকে, তাহলে তিনি আবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
তৃণমূল নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে গত পাঁচ বছরে সাধারণ মহিলারা পেয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। তফসিলি জাতি, জনজাতি ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলারা পেয়েছেন আরও বেশি, প্রায় ৭২ হাজার টাকা। এবারের অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাও আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে মহিলারা বছরে আরও ৬ হাজার টাকা বেশি পাবেন।
একই ধাঁচে যুব সাথী প্রকল্পেও বেকার যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকবে। বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আগামী অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। তবে মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ১ এপ্রিল থেকেই যুব সাথী প্রকল্প চালু হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের আগেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বেকাররা।
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে ক্যাম্প বসানো হবে। সেই ক্যাম্পে গিয়ে বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাইয়ের পর ১ এপ্রিল থেকে যোগ্য মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে দেড় হাজার টাকা করে ঢুকতে শুরু করবে।
তবে অন্তর্বর্তী বাজেটে এ ধরনের নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
