আজকের দিনেবাংলার আয়না

মা’কে গুলি করে আত্মঘাতী ছেলে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- পারিবারিক অশান্তির জেরে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল আসানসোলের কুলটি এলাকা।কুলটি থানার অন্তর্গত কলেজ রোডের রামকৃষ্ণ সরণীতে এক যুবক প্রথমে নিজের মাকে গুলি করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন । শেষে নিজেকেও গুলি করেন তিনি। এই ঘটনায় মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম রাজা মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায়ই তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে অশান্তি করতেন এবং মা বাবার কাছে টাকা চাইতেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে চিৎকার চেঁচামেচি থেকে শুরু করে মারধর পর্যন্ত গড়াত পরিস্থিতি। প্রতিবেশীরাও মাঝেমধ্যে ওই বাড়ি থেকে ঝগড়ার শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।
পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কথায়, গত কয়েক মাস ধরে বাড়ি বিক্রি করার জন্য বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন রাজা। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না তাঁর বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায়। সেই বিষয় নিয়েই বুধবার অশান্তি তীব্র আকার নেয়। অভিযোগ, সেদিন রাজা তাঁর বাবাকে মারধর করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দয়াময়বাবু প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে মেয়ের বাড়ি কাশিপুরে আশ্রয় নেন।
বৃহস্পতিবার বাড়িতে রাজা ও তাঁর মা ছিলেন। অভিযোগ, সেদিনও অশান্তি শুরু হয়। সেই সময় আচমকাই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালান, যাতে তাঁর মা গুরুতর জখম হন। এরপর বাড়ির ভেতর আগুন লাগিয়ে দেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। গুলির শব্দ ও ধোঁয়া দেখে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়ির ভিতর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি যুবকের হাতে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি এবং নেশার জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *