আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

ভোটার তালিকায় ‘ফাউন্ড ওকে’ বিতর্ক, চাপে নির্বাচন কমিশন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একাধিক ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-র ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি না থাকা সত্ত্বেও ভোটারের আবেদন ‘ফাউন্ড ওকে’ বলে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নথি যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং সব ঠিক আছে এমন স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদিও তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ছিল। উদাহরণ হিসেবে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের একটি ঘটনার কথা সামনে এসেছে। সেখানে রাজেশ আলি নামে এক ভোটারের আবেদনে তাঁর বাবার নাম ভুবনচন্দ্র বেরা, মায়ের নাম পুষ্পরানি বেরা এবং স্ত্রীর নাম সুমিত্রা রানি বেরা উল্লেখ রয়েছে। ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে নন্দনপুর। কিন্তু অভিযোগ, এই সম্পর্কগুলির পক্ষে কোনও প্রমাণপত্র বা নথি আপলোড করা হয়নি। তবুও সংশ্লিষ্ট ইআরও সেটিকে ‘ফাউন্ড ওকে’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এই ধরনের একাধিক ঘটনার খবর কমিশনের কাছে পৌঁছেছে।

এর ফলে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। যেসব আবেদন আগে ‘ফাউন্ড ওকে’ করা হয়েছিল, তার অনেকগুলিকেই এখন রোল অবজারভারদের লগ-ইন থেকে ‘টু বি রিভিউড’ অর্থাৎ পুনর্বিবেচনার জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। কারণ, তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। ফলে আগে অনুমোদিত বলে ধরা হলেও এখন সেগুলি চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাচ্ছে না।

সূত্রের দাবি, এ ধরনের বেশিরভাগ ঘটনাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ঘটছে। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট ১৩ ধরনের বৈধ নথির বাইরে অন্য নথি জমা দেওয়া হলে বা নথির সঙ্গে সঠিক সংযোগ প্রমাণ করা না গেলে সমস্যা হতে পারে। সেই অবস্থায় যদি কোনও ইআরও ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ‘ফাউন্ড ওকে’ করে দেন, তাহলে পরে তা পুনর্বিবেচনার তালিকায় আসতেই পারে।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলায় ‘টু বি রিভিউড’ চিহ্নিত ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার। কিন্তু বুধবার সকালেই তা বেড়ে প্রায় আট হাজারে পৌঁছে যায় বলে জানা গিয়েছে। অন্য জেলাগুলিতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। পশ্চিমাঞ্চল বাদ দিলে রাজ্যের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি সূত্রের। গড় হিসেবে প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় দশ হাজার করে নাম পুনর্বিবেচনার তালিকায় যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই হিসাবে রাজ্য জুড়ে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ নাম পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হাফিজুর রহমান হালদার নামে এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাঁর জন্মতারিখ ৩০ নভেম্বর ১৯৯০ হলেও জন্ম শংসাপত্রের নথিভুক্তির তারিখ দেখানো হয়েছে ২৩ অগাস্ট ১৯৯০। অর্থাৎ জন্মের প্রায় দু’মাস আগেই নথিভুক্তি হয়েছে। এই ধরনের অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যেসব ইআরও ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকা সত্ত্বেও ‘ফাউন্ড ওকে’ বলে চিহ্নিত করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, এ ধরনের ইআরও-দের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত উচ্চতর স্তর থেকেই নেওয়া হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে আর অল্প সময় বাকি। তার মধ্যেই এত বিপুল সংখ্যক আবেদন পুনর্বিবেচনার তালিকায় চলে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে এই জট কীভাবে কাটানো হবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *