আজকের দিনেবাংলার আয়না

বাঘের পায়ের ছাপে আশার আলো, বক্সার জঙ্গলে ফিরছে প্রাণ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গভীর জঙ্গলে ফের বাঘের পায়ের ছাপ। আর তাতেই আনন্দের ঢেউ গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বনবস্তির মানুষদের মনে। কোর এলাকা থেকে এই দুই বনবস্তি অন্যত্র সরে যাওয়ার এক বছর পর বাঘের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় উচ্ছ্বসিত ২০৩টি পরিবারের বাসিন্দারা। তাঁদের বিশ্বাস, বাঘ যদি পাকাপাকি ভাবে বক্সার জঙ্গলে ঘাঁটি গড়ে তোলে, তবে শুধু বন নয়, চাঙ্গা হবে গোটা এলাকার অর্থনীতিও।
২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কালচিনির ভাটিপাড়া চা বাগানের পাশে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বনবস্তির ২০৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন দেয় রাজ্য সরকার। পরিবার পিছু আট ডেসিমেল জমির পাশাপাশি দেওয়া হয় ১৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা। নতুন বসতিতে রাস্তা, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সব রকম পরিকাঠামোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।

গাঙ্গুটিয়ার আদি বাসিন্দা রামকুমার লামার কথায়, “বাঘ প্রকল্পে বাঘ থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। আমরা বন ছাড়ার পর জঙ্গলে বাঘের আনাগোনা বেড়েছে—এতে আমরা খুব খুশি। চাই বক্সায় বাঘের স্থায়ী আবাস গড়ে উঠুক। তাতে পর্যটন বাড়বে, আমাদেরও উপকার হবে।”

একই সুর শোনা গেল সোনা লামার গলাতেও। তিনি বলেন, “বাপ-ঠাকুরদার ভিটে ছেড়ে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বুনোদের ভিটে তাদের ফিরিয়ে দিয়ে আমরা ঠিক কাজই করেছি।”

বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পশ্চিম চেকো বিট এলাকার গদাধর নদীর ধারে একটি গোরু শিকার করেছে বাঘ। ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন জানান, “দেশজুড়ে বাঘ সুমারির সময়ে বক্সায় বাঘের উপস্থিতি ও শিকারের প্রবণতা বাঘ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *