নেতাজির পথে, শিক্ষার আরাধনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ এই ভাবনা আধুনিক ভারতের হলেও, স্বাবলম্বী ও দক্ষ ভারত গড়ার স্বপ্ন বহু আগেই দেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। সেই স্বপ্ন থেকেই ১৯২৪ সালে তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম। পরিবারহীন ছেলেদের আশ্রয় দিয়ে শিক্ষা, শৃঙ্খলা আর কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভর করে তোলাই হলো মূল উদ্দেশ্য।
১০২ বছর পেরিয়ে আজও সেই আদর্শ বহন করে চলেছে ভবানীপুরের শরৎ বোস রোডের এই প্রতিষ্ঠান। এ বছর একসঙ্গেই পালন করা হচ্ছে নেতাজির জন্মজয়ন্তী ও সরস্বতী পুজো।
সেবাশ্রমের সম্পাদক শুভেন্দ্র মৌলিক বলেন,
“দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম কোনও সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়। নেতাজির জীবনের বহু কাজের মধ্যে এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”
নেতাজি ‘অনাথ আশ্রম’ শব্দটির বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, এই শব্দ শিশুদের মনে কষ্ট দিতে পারে। তাই তিনি নাম দেন ‘সেবাশ্রম’। এর আগেই দরিদ্র মানুষের সেবার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন দক্ষিণ কলিকাতা সেবক সমিতি।
ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে বসেই সেবাশ্রম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সম্পাদক স্বয়ং নেতাজি। বর্তমানে সেবাশ্রমে ৫৬ জন আবাসিক পড়ুয়া রয়েছে। সভাপতি প্রাক্তন বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়। সহ-সভাপতিদের তালিকায় রয়েছেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। পড়াশোনার ব্যবস্থাও সুসংগঠিত। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সেবাশ্রমেই। তার পর যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করা হয়। ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত আবাসিক সুবিধা রয়েছে। সরকারি শিক্ষা প্রকল্প ও নানা প্রতিযোগিতায় সেবাশ্রমের ছাত্ররা বহুবার সাফল্য পেয়েছে।
এবার ২৩ জানুয়ারি উপলক্ষে নেতাজির লেখা চিঠির উপর ভিত্তি করে একটি গীতি-আলেখ্য
পরিবেশিত হবে যার বিষয়বস্তু মায়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, দেশমাতৃকার জন্য ত্যাগ ও সেবার ভাবনা। দায়িত্বে রয়েছে কিশোর আবাসিকরা। সরস্বতী পুজোর সাজ-আলপনায়ও সক্রিয় তারাই। থাকবে গান, নাটক ও আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রাক্তন আবাসিকরাও।
উচ্চশিক্ষা বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ে যেতে চাইলে সেবাশ্রম সেই ব্যবস্থাও করে দেয়। নেতাজি মান্দালয়ের কারাগারে থাকাকালীনও নিয়মিত খোঁজ রাখতেন সেবাশ্রমের ছাত্রসংখ্যা, রান্না, বাগান এমনকি বাড়িভাড়ার খুঁটিনাটি বিষয়েও। এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন,“আমি কংগ্রেসের কাজ ছাড়িতে পারি, তবুও সেবাশ্রমের কাজ ছাড়া আমার পক্ষে অসম্ভব।”
শুভেন্দ্র মৌলিকের কথায়,“নেতাজি কখনও চাননি কেউ বেকার বসে থাকুক। তাঁর বিশ্বাস ছিল ন্যূনতম এমন শিক্ষা চাই, যাতে মানুষ স্বাবলম্বী হতে পারে। তবেই দেশ এগোবে।” এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সেই ভাবনাকেই বাঁচিয়ে রেখেছে দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম।
