দিল্লির কর্তব্যপথে আজ সাধারণতন্ত্র দিবস, গণতন্ত্র ও ঐক্যের বার্তা দেশজুড়ে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আজ দিল্লির কর্তব্যপথে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস। এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সামরিক শক্তির ছবি গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান এবং বিদেশনীতির দিকনির্দেশও স্পষ্ট হবে এই আয়োজনের মাধ্যমে।
গণতন্ত্রের এই বড় উৎসব শুরুর আগেই দেশবাসীকে সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে ‘বিকশিত ভারত’-এর কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই জাতীয় উৎসব দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা নিয়ে আসুক এবং উন্নত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প আরও মজবুত হোক।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, সাধারণতন্ত্র দিবসে তিনি সকল দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই দিনে আমাদের সংবিধানের মূল আদর্শ—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতি নতুন করে অঙ্গীকার করা দরকার। পাশাপাশি বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে চলার সংকল্প নেওয়ার কথাও তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, স্বাধীনতার মূল্য চিরন্তন সতর্কতা। সেই সতর্কতা বজায় রাখাই আমাদের সবার দায়িত্ব। তাঁর কথায়, আজকের দিনে প্রজাতন্ত্র এবং সংবিধান আমাদের সকলের কাছ থেকে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ দাবি করে। এই বিশেষ উপলক্ষে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, সংবিধান প্রণেতা, সেনাবাহিনীর জওয়ান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার উপস্থিতিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে এবারের অনুষ্ঠানের থিম নির্ধারিত হয়েছে, যা জাতীয়তাবোধ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক দিক থেকেও এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও শুল্ক নীতিকে ঘিরে যখন নানা টানাপোড়েন চলছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বার্তা উঠে আসছে এই উৎসবের মাধ্যমে। সব মিলিয়ে এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস শুধুমাত্র জাতীয় গর্বের অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশও বহন করছে।
