দাসপ্রথায় আইনি স্বীকৃতি? তালিবানের নতুন আইনে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বর্ণপ্রথা ও দাসত্বের মতো অমানবিক প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে সারা বিশ্ব। বহু দেশেই বহু আগেই দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই পথ ছেড়ে এবার উল্টো দিকে হাঁটল আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন। নতুন একটি আইন পাশ করে কার্যত দাসত্ব ও বর্ণভিত্তিক সমাজব্যবস্থাকে আইনি স্বীকৃতি দিল তালিবান।
তালিবানের সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত এই আইনে আফগান নাগরিকদের চারটি আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এই শ্রেণিভাগের উপর ভিত্তি করেই চলবে প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা। অর্থাৎ, এক দেশেই চার রকম আইন কার্যকর হবে।
প্রথম বা সর্বোচ্চ শ্রেণিতে থাকবেন উলেমা ও মোল্লারা। এই শ্রেণির কেউ অপরাধ করলে কেবল কিছু উপদেশ দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হবে। কার্যত কোনও শাস্তিই নেই।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে রাখা হয়েছে আশরাফ বা উচ্চবিত্তদের। তাঁদের অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতে ডেকে কিছু উপদেশ দিয়ে মুক্তি দেওয়া হবে।
তৃতীয় শ্রেণিতে থাকবেন মধ্যবিত্ত আফগান নাগরিকরা। তাঁরা অপরাধ করলে তদন্তের পর কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
চতুর্থ এবং সবচেয়ে নিচের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে দরিদ্র মানুষদের। তাঁদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড এবং শারীরিক নির্যাতনের মতো কঠোর শাস্তির পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, নারীদের অধিকাংশকেই এই চতুর্থ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বিচার ছাড়াই নারীদের উপর নির্যাতনের আইনি ছাড়পত্র মিলেছে বলেই অভিযোগ উঠছে।
এই নতুন আইনে বারবার ‘দাস’ বা ‘গোলাম’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সমাজের চারটি শ্রেণির বাইরেও দাসদের রাখা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা বিচারব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে আইনে। দাসদের শারীরিকভাবে আঘাত করা এবং নারীদের দাস হিসেবে ব্যবহার করার পথও এই আইনে খুলে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, বহু বছর আগে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়া দাসপ্রথার কলঙ্ককে আবার আইনি স্বীকৃতি দিয়ে ফিরিয়ে আনল তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। নতুন এই আইন দেখে অনেকেই মনে করছেন, ইরানের মতোই মোল্লাতন্ত্রের কড়া শাসনের পথে আরও এক ধাপ এগোল আফগানিস্তান।
মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই আইনের তীব্র নিন্দা করলেও, আন্তর্জাতিক চাপ আদৌ আফগানিস্তানের এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
