আজকের দিনেভারত

টেকঅফের পরই ইঞ্জিন বন্ধ, রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই-১৭১ বিমান টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। বিমানটি রানওয়ে থেকে উঠেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আচমকা শক্তি হারাতে শুরু করে। এরপর সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি বিমানটি ভেঙে পড়ার ফলে নিচে থাকা আরও কয়েকজনের প্রাণ যায়। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৬০।

এই দুর্ঘটনার পরই শুরু হয় বিস্তারিত তদন্ত। বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ও ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পান। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, টেকঅফের পরপরই বিমানের দুই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্জিনে জ্বালানি যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে যে সুইচ, সেটি ‘রান’ অবস্থান থেকে ‘কাট-অফ’ অবস্থায় চলে গিয়েছিল। ফলে ইঞ্জিন দুটি বন্ধ হয়ে পড়ে এবং বিমানটি দ্রুত শক্তি হারায়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ককপিটের অডিও রেকর্ডিংয়ে দুই পাইলটের মধ্যে কথোপকথনের একটি অংশ ধরা পড়ে। সেখানে এক পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছেন, “তুমি জ্বালানি বন্ধ করলে কেন?” উত্তরে অন্য পাইলট বলেন, “আমি করিনি।” এই সংলাপ ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—সুইচটি কীভাবে বন্ধ হল? এটি কি ভুলবশত হয়েছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সরিয়েছে?

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটির চেয়ে মানবিক কারণের সম্ভাবনাই বেশি। সেখানে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের সুইচ সাধারণত এমন জায়গায় থাকে যা ভুল করে নড়ানো সহজ নয়। সচেতনভাবে না সরালে তা ‘কাট-অফ’ অবস্থায় যাওয়ার কথা নয়। এই দাবি সামনে আসতেই ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী দল জানিয়েছে, সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্ল্যাক বক্সের ডেটা, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, যন্ত্রাংশ পরীক্ষা সবকিছু মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি হবে। তার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতে নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোড়ন ফেলেছে। কীভাবে একটি যাত্রীবাহী বিমান টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শক্তি হারাল, এবং জ্বালানি সরবরাহ কেন বন্ধ হল এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই এখন সবার অপেক্ষা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *