আজকের দিনেতিলোত্তমা

চা-আড্ডায় জনসংযোগে নামল বিজেপি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বঙ্গে সংগঠন এখনও যথেষ্ট দুর্বল, বিশেষত তৃণমূল স্তরে জনসংযোগে ঘাটতি রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। ভোটের আগে সেই দুর্বলতা কাটাতে নতুন কর্মসূচি নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি-র বঙ্গ শাখা। ‘যুব আড্ডা’ নামে এই উদ্যোগে গাছতলা, পুকুরপাড় বা বাড়ির উঠানে চাটাই পেতে বসে আড্ডা-চা-চক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

পরীক্ষার মরশুমে মাইকিংয়ে বিধিনিষেধ থাকায় জেলায় জেলায় বিকল্প জনসংযোগ মাধ্যম হিসেবে এই কর্মসূচি নিয়েছে দলের যুব শাখা। উদ্দেশ্য নিচুতলার ভোটারদের সঙ্গে দূরত্ব কমানো। দলীয় মূল্যায়নে এখনও রাজ্যের গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে জনবিচ্ছিন্নতা রয়েছে, পাশাপাশি সাংগঠনিক দুর্বলতাও রয়েছে যথেষ্ট। তাই ২০২৬-এর ভোটের আগে সংগঠন চাঙা করে মানুষের কাছে পৌঁছতে এই নতুন কৌশল।

এ ধরনের আড্ডাভিত্তিক প্রচার অবশ্য একেবারে নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র জনপ্রিয় ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচি থেকেই অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই পথেই আগে বহুবার পাড়ায় পাড়ায় চা-চক্র করেছেন দলের নেতা দিলীপ ঘোষ। এবার সেটিকেই তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দল সূত্রে খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০-২৫টি করে ‘যুব আড্ডা’ আয়োজনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতি বৈঠকে ২৫-৫০ জনের উপস্থিতি টার্গেট। আড্ডার ছলে মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও ভোট মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন কর্মীরা।

বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, “দলের কথা সমাজের নিচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিতেই এই আড্ডার আয়োজন।” অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের দাবি, যুবকদের সমস্যার কথা শুনে ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণই মূল লক্ষ্য — “যুবরাই ঠিক করবে কেমন বাংলা চাই।” এদিকে রাজ্যজুড়ে পথসভাও চালিয়ে যাচ্ছে দল। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার পথসভার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৮,৩১৫টি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *