চাকরি দেওয়ার নামে ৩৮ লক্ষ টাকার প্রতারণা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এক সিআইএসএফ জওয়ান ও তাঁর ছেলে। ধৃত সিআইএসএফ জওয়ানের নাম আবদুল মালেক এবং তাঁর ছেলের নাম নিজামউদ্দিন গাজি। অভিযোগ, বাবা-ছেলে মিলেই রেল ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাট থানা এলাকার একাধিক যুবকের কাছ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছিল। অভিযুক্ত আবদুল মালেক, যিনি সিআইএসএফ-এ কর্মরত, এবং তাঁর ছেলে নিজামউদ্দিন গাজি দাবি করতেন যে তাঁদের প্রভাব খাটিয়ে রেল সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়া সম্ভব। সেই বিশ্বাসেই এক-এক জন যুবকের কাছ থেকে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও প্রতিশ্রুত চাকরি না মেলায় সন্দেহ দানা বাঁধে। শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতারিত যুবক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা গতকাল রাতে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে আটক করে বিক্ষোভ দেখান। পরে বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে বসিরহাট থানার পুলিশ আবদুল মালেক ও তাঁর ছেলে নিজামউদ্দিন গাজিকে গ্রেফতার করে। আজ তাঁদের পুলিশ হেফাজতে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। গোটা ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কি না, কিংবা আরও প্রতারিত ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগে এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতা—যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বেআইনি নিয়োগের কারণে বাতিল হয়েছে প্যানেল, চলে গিয়েছে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি।
এই আবহেই ফের চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠছে।
