আজকের দিনেতিলোত্তমা

আনন্দপুরে জারি ১৬৩ ধারা,ঘটনাস্থল পরিদর্শনে হাইকোর্টের কাছে আবেদন শুভেন্দুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আনন্দপুরের নাজিরাবাদের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন জারি করেছেন ধারা ১৬৩ । এই ধারা প্রয়োগের ফলে গোডাউনের ১০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি উদ্ধারকাজকে ব্যাহত হতে দেওয়া রোধ এবং এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টে আবেদন করে জানিয়েছেন যে তিনি আগুনের স্থল পরিদর্শন করতে ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান। পুলিশের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ১৬৩ ধারার বিধান খারিজের আবেদন করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চ, জাস্টিস শুভ্রা ঘোষের নেতৃত্বে, বিষয়টি শুনানি করার অনুমতি দিয়েছেন।

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, আগুন লাগার আগে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং উদ্ধারকাজ ধীরগতি হওয়ায় মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রশাসন দাবি করছে, ধারা ১৬৩ প্রয়োগ করা হয়নি রাজনৈতিক কারণে, বরং এটি রেসকিউ ও উদ্ধার কাজে বাধা এড়াতে ও জনসাধারণকে নিরাপদ রাখার জন্য ছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ রাতের দিকে আনন্দপুরে একটি গডাউনে ভয়ঙ্কর আগুন লেগে পড়ে। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে আশেপাশের কয়েকটি গডাউন ও দোকান-ঘর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা জানান, রাতভর ধোঁয়া আর আগুনের তীব্রতা পুরো এলাকা ঢেকে ফেলে। খবর পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার দমকল ও পুলিশ রাতভর উদ্ধারকাজ চালায়।
এখন পর্যন্ত জানা গেছে, ২১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাথমিকভাবে ২৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকৃত দেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার ঘটনায় গডাউন মালিককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সেখানে প্রয়োজনীয় আগুননিরোধ ব্যবস্থা ছিল না, যা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে।

এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চাপ ও সমালোচনা তীব্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *