এক বা দুই দফায় ভোট চাই! কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে সুর মেলাল বিজেপি-সিপিএম
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়। রবিবার রাতেই কলকাতায় পা রেখেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এদিন সকালে বিজেপি এবং সিপিএমের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, দুই যুযুধান প্রতিপক্ষই বাংলায় এক বা দুই দফায় ভোট করার দাবিতে একসুর হয়েছে।
কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর প্রধান বক্তব্যগুলি হলো:
ভোটার তালিকা ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’: সেলিম প্রশ্ন তোলেন, ভোটার লিস্ট করতে গিয়ে কেন কমিশন সাধারণ মানুষকে শত্রুর পর্যায়ে নিয়ে গেল? তিনি দাবি করেন, ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে আদালতে মামলা ঝুলে আছে, তাঁদের বাদ দিয়ে লিস্ট হতে পারে না।
সরষের মধ্যে ভূত: প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম বলেন, “কমিশন স্বীকার করেছে আগে ত্রুটি ছিল। আমরা বলেছি, দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা জনসমক্ষে জানাতে হবে।”
অনলাইন ফর্ম ৬-এর জটিলতা: ১৮ বছর বয়সীদের নাম তোলার ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থার বদলে পিছিয়ে পড়া মানুষের সুবিধার্থে আরও সহজ উপায়ের দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন বনাম নির্যাতন: সেলিমের হুঁশিয়ারি, “নির্বাচন কমিশন কেন নির্যাতন কমিশন হয়ে গেল? কমিশনকে তার সাংবিধানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে হবে।”
বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিশির বাজোরিয়া, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাপস রায়। কমিশনের কাছে তাঁদের প্রধান দাবিগুলি ছিল-
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আঙুল কেটে নেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
স্পর্শকাতর বুথ ও রুটমার্চ: রাজ্যের সমস্ত স্পর্শকাতর বুথ আগেভাগেই চিহ্নিত করে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
ভয়মুক্ত পরিবেশ: ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।
অফিসারদের ‘তন্ত্র’ ভাঙার দাবি: রাজ্য সরকারের অনুগত অফিসাররা যাতে ভোটের কাজে প্রভাব না ফেলতে পারে, সেই দিকে কড়া নজর দেওয়ার আর্জি জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া পুলিশ ওয়েলফেয়ার সংগঠনের অফিসগুলি বন্ধের দাবিও তোলা হয়।
বিজেপি ও বাম—দুই পক্ষই লজিস্টিক এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে ভোট না চালিয়ে মাত্র এক বা দুই দফায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির এই দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
