মায়ের মৃতদেহ সরানোর সময় ধরা পড়ল ছেলে!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মালদহঃ- অন্ধকার রাত। বাড়ির সব আলো নেভানো। নিঃশব্দে তিনতলার ছাদ থেকে একটি নিথর দেহ নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন বড় ছেলে। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় সামনে এলো এক হাড়হিম করা ঘটনা। মালদহ শহরের বালুচর এলাকার মুচিপাড়ায় মায়ের মৃতদেহ তিনদিন ধরে লুকিয়ে রাখা এবং পরে তা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে বড় ছেলে কৃষ্ণ দাসকে।
মৃতা লক্ষ্মী দাস (৫৫)। তাঁর স্বামী পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছোট ছেলে বিকাশ দাস বাবার চাকরি পান এবং বর্তমানে তিনি মালদহ জেলা সংশোধনাগারে কর্মরত। বড় ছেলে কৃষ্ণ দাস অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্মী দেবীকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। শুক্রবার রাতে বাড়ির অন্ধকার করে ছাদ থেকে দেহ নামানোর সময় প্রতিবেশীদের নজরে পড়ে যান কৃষ্ণ।
খবর পেয়ে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান,মৃতদেহটি অন্তত তিনদিন ধরে তিনতলার ছাদে ফেলে রাখা হয়েছিল। পচন ধরতে শুরু করা দেহটি শুক্রবার রাতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিচে নামানো হচ্ছিল। দুই ছেলেই মদ্যপ অবস্থায় থাকতেন এবং এলাকায় তাঁদের আচরণ নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে।
এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর পলি সরকার অভিযোগ করে জানান, “দুই ছেলেই মদ্যপ অবস্থায় থাকেন। তাঁরা অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করতেন না। দোলের সময় থেকে ওই মহিলা একাই বাড়িতে ছিলেন। মা মারা যাওয়ার পরও কেন কাউকে জানানো হলো না, তা নিয়ে গভীর রহস্য রয়েছে।”
মায়ের মৃত্যুর খবর চেপে রেখে কেন দেহটি ছাদে লুকিয়ে রাখা হলো? কেনই বা রাতের অন্ধকারে তা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছিল? এই প্রশ্নগুলোই এখন ভাবিয়ে তুলছে তদন্তকারীদের। এটি কি নিছকই স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বর্তমানে বড় ছেলে কৃষ্ণ দাসকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।
