আজকের দিনেবিশ্ব

ইরানের হামলায় পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে দুবাইয়ে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায় ইরানে । চুপ করে না থেকে দুবাইতেও পালটা আঘাত করে ইরানিয়ান বাহিনী । একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ডোন হামলার ফলে বিমান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয় দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে । আধুনিক এই শহরে নিরাপত্তা নিয়ে টাকা দিয়েছে বড় প্রশ্ন । সুসজ্জিত , সুসভ্য এই শহরের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে ।

প্রসঙ্গত, বহু বছর ধরে দুবাই আরব দুনিয়ার মাঝখানে এক শান্তির উদাহরণ। সারি সারি ঝা চকচকে অট্টালিকা, আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র, বিশ্বমানের বিমানবন্দর , পর্যটকদের মনোরম শহর সবে মিলে বিশ্বের সামনে দুবাইয়ের যে ব্রান্ড ইমেজ তৈরি হয়েছে তা দেখে মনে হতো না কোন অশান্তির আগুন কে স্পর্শ করতে পারে। রোজগারের জন্য তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে ভিড় জমায় এখানে। কারণ দুবাই মানে মানুষের মনে শান্তি আনন্দ ও বিলাসবহুল জীবনের ছবি ভেসে ওঠে । কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বিপরীতগামী । সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব আয়াতোল্লা খামেনেই। তারপর থেকেই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলিতে পরিবর্তন হতে থাকে । ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে তা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু সেই প্রতিশোধের প্রতিক্রিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি । উপসাগরীয় একাধিক দেশে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। যার মধ্যে সরাসরি আঘাতের মুখে পড়েছে দুবাই। স্বপ্নের শহর দুবাইতে ইরানে হামলার পরবর্তী দিনগুলিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় । উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিছু কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় আঘাত এসে পড়ে। হোটেল বন্দর এলাকা এবং বিমানবন্দরের আশেপাশে হামলার চালায় ইরানিয়ান বাহিনী । সরকারি সূত্রের হিসাব অনুযায়ী হামলায় এখনো অব্দি তিন জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন । দুবাইয়ের স্থায়ী বাসিন্দা ও পর্যটকরা বলছেন এত বছরের ইতিহাসে প্রথমবার প্রায় অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে । রাতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে অনেকে আতসবাজি ভেবেছিলেন । পরবর্তীকালে হামলার ব্যাপারে সকলকে অবহিত করে জরুরী সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। হামলার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুবাইয়ের বিমান চলাচলে । একের পর এক বিমান স্থগিত করা হয় । আগামী ৬ই মার্চ পর্যন্ত আকাশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এশিয়া ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে সংযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র দুবাই । বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন । যার ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শৃঙ্খলে বড়সড়ো বিঘ্ন ঘটে ।

শুধু নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা নয় আর্থিক ক্ষেত্রেও অস্থিরতা দেখা গিয়েছে। আরব এমিরেটসের বড় স্টক এক্সচেঞ্জ গুলোতে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ । এই ঘটনার ফলে দুবাই বৈশ্বিক বিনিয়োগের বাজারে যে আস্থা অর্জন করেছিল সেই জায়গা তো একাধিক প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল ।
দুবাইয়ে ইরানের হামলার পর জ্বালানি বাজারে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা গিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও আশেপাশের সমুদ্রপথ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান রাস্তা। এই অঞ্চলে সন্ধ্যার তীব্র হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে ।

গত কয়েকদিনে একটা বিষয়ে পরিষ্কার হলো যুদ্ধের ঢেউ সীমান্ত মানে না। দুবাইয়ের মত পরিপাটি ও সুসজ্জিত নগর এই সংঘাত ঠেকাতে পারল না। পরিস্থিতি হয়তো দ্রুত স্বাভাবিক হবে কিন্তু দশকের পর দশক ধরে দুবাই যে ধারণা তৈরি করেছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখার সেই বিষয়টি এবারে ভেঙে গেল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *